ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলার তদন্ত প্রকাশ

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ককপিটে হামলার ঘটনায় তদন্তের ফলাফল ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ককপিটে হামলার ঘটনায় তদন্তের ফলাফল ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, সন্দেহভাজন সহ-পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরায়েলের একটি বিমানবন্দরে সেটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে অন্য পাইলট, কেবিন ক্রু ও যাত্রীদের তৎপরতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম ফেডারেল অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসির বরাত দিয়ে তদন্তের এসব তথ্য প্রকাশ করে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার আদলে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি জিজ্ঞাসাবাদে নিজের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন এবং একাই এ কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁর কোনো সহযোগী ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে উড্ডয়নপথ ও ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পর্কে ধারণা নিতে তিনি দুইবার ইসরায়েল সফর করেছিলেন। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পড়াশোনার সময় তিনি চরমপন্থী মতাদর্শের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে ফ্লাইদুবাইয়ের নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে। উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই ইসরায়েলি নাগরিক।

অভিযোগ অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় সহ-পাইলট একটি জরুরি কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালান। এতে ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অপর পাইলট, কেবিন ক্রু এবং কয়েকজন যাত্রী একসঙ্গে সন্দেহভাজনকে কাবু করেন। এরপর উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করা হয়।

ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলে আসা-যাওয়ার ফ্লাইট স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটিতে ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ঘটনায় উড়োজাহাজের ককপিট নিরাপত্তা, কর্মীদের যাচাই এবং আকাশপথে যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্তের সব দিক এবং সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.