কার্বন নিঃসরণে বাড়ছে বিমান সংস্থার ব্যয়

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে কার্বন নিঃসরণ কমানোর নিয়ম মেনে চলতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস।

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে কার্বন নিঃসরণ কমানোর নিয়ম মেনে চলতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস। পরিবেশগত বিধিনিষেধ, কার্বনসংক্রান্ত কর এবং বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলার ব্যয় বাড়তে থাকায় বিমান সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপও বাড়ছে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসফিন তাসেউ এ তথ্য জানিয়েছেন।

আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত পূর্ব আফ্রিকান সম্প্রদায়ের চতুর্থ অভ্যন্তরীণ আইনবিষয়ক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, উড়োজাহাজ পরিচালনার ফলে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের সংস্থা কার্বন ক্রেডিট কিনছে। তবে আগামী বছরগুলোতে এ খাতে ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এই ব্যয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) পরিচালিত আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে কার্বন নিঃসরণ প্রশমন ও হ্রাস কর্মসূচির (করসিয়া) সম্পর্ক রয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমার অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়। কার্বন ক্রেডিট কেনা সেই ব্যবস্থার একটি অংশ।

মেসফিন তাসেউ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে নতুন করে কার্বনসংক্রান্ত বিভিন্ন ফি আরোপের সমালোচনাও করেছেন। তাঁর মতে, একই ধরনের পরিবেশগত বিষয়ে একাধিক বিধিনিষেধ ও ফি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নিয়ম মেনে চলা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে।

দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব উড়োজাহাজ জ্বালানি বা টেকসই বিমান জ্বালানিকে (এসএএফ) কার্বন নিঃসরণ কমানোর সম্ভাবনাময় সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এর সীমিত প্রাপ্যতা এবং উচ্চমূল্যের কারণে ব্যবহার বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী টেকসই বিমান জ্বালানির উৎপাদন ২৪ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে। তারপরও তা বিশ্বে মোট উড়োজাহাজ জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশের সমান হবে।

পরিবেশগত ব্যয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে কর এবং ভোক্তা সুরক্ষাসংক্রান্ত নিয়মও বিমান সংস্থাগুলোর ব্যয় বাড়াচ্ছে। আফ্রিকান এয়ারলাইনস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রা করা যাত্রীদের গড়ে ৬৮ মার্কিন ডলার কর, ফি ও চার্জ দিতে হয়েছে।

 

এ ছাড়া শিল্প খাতের তথ্য বলছে, আফ্রিকায় বিমান চলাচল ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। ফলে পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা, জ্বালানির মূল্য এবং বিভিন্ন দেশের নিয়মকানুন মেনে চলার ব্যয় সামলানো বিমান সংস্থাগুলোর জন্য ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.