প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচায় স্বাগত জানাল চীন
মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান শহরে পৌঁছেছেন।
মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান শহরে পৌঁছেছেন। সোমবার গভীর রাতে তাঁর আগমন উপলক্ষে চীনের পক্ষ থেকে লাল গালিচা সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটে দালিয়ান ঝৌশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাংলাদেশ সময় তখন রাত ১টা ৫ মিনিট। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতীকুর রহমান রুমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী জোবাইদা রহমানকে স্বাগত জানান লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর বাই ইং, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজমুল ইসলাম। উভয় দেশের কর্মকর্তারা উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সফরের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে একটি বিশেষ মোটরকেডের মাধ্যমে দালিয়ানের শাংগ্রি-লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। চীন সফরের প্রথম দুই দিন তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। সফরকালে দালিয়ানে তাঁর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচি শেষে তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যাবেন, যেখানে তাঁর সরকারি সফরের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
দালিয়ানে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত সামার দাভোস ফোরাম ২০২৬-এর ১৭তম বার্ষিক নিউ চ্যাম্পিয়ন্স সভায় অংশ নেবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, শীর্ষ ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকেরা এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, সম্ভাব্য বিনিয়োগ আলোচনা এবং বিভিন্ন সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সফরটি শুধু কূটনৈতিক দিক থেকেই নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
