বিমানের লন্ডন, কানাডা, দুবাইসহ গুরুত্বপূর্ণ আউট স্টেশনগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু

বিমানের বিদেশি স্টেশনগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি

বিমানের বিদেশি স্টেশনগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি
লন্ডন, কানাডা, দুবাইসহ গুরুত্বপূর্ণ আউট স্টেশনগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধান

বিশেষ প্রতিনিধি :  রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিদেশে পরিচালিত বিভিন্ন আউট স্টেশনের কার্যক্রম নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক নজরদারি। লন্ডন, কানাডা, দুবাই, আবুধাবি, মাস্কাট, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের একাধিক স্টেশনসহ সব আউট স্টেশনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।

বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমানের বলাকা ভবন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যাত্রীসেবা, টিকিট বিক্রি, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, অপারেশনাল বিল যাচাই, রাজস্ব আদায় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি রয়েছে কিনা তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে বিমানের পূর্ব ও পশ্চিম জোনে মোট ১৯টি আউট স্টেশন রয়েছে। পূর্বাঞ্চলে সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর ও ব্যাংকক এবং পশ্চিমাঞ্চলে কলকাতা, দিল্লি, কাঠমান্ডু, মাস্কাট, আবুধাবি, দোহা, শারজাহ, কুয়েত, দুবাই, জেদ্দা, মদিনা, দাম্মাম, রিয়াদ, লন্ডন, ম্যানচেস্টার, ইতালি ও কানাডা অন্তর্ভুক্ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিদেশি স্টেশনকে কেন্দ্র করে যাত্রী হয়রানি, টিকিট বাণিজ্য, লাগেজ সংক্রান্ত অনিয়ম, আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ রয়েছে। অতীতে এসব অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হলেও দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা খুব একটা দেখা যায়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদেশি স্টেশনগুলোর ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা নিয়োগ এবং আর্থিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।

বিমানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদেশে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দুটি গোয়েন্দা সংস্থা বিভিন্ন স্টেশনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
বিমান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বড় আউট স্টেশনগুলোর মধ্যে দুবাই, লন্ডন, কানাডা, আবুধাবি, মাস্কাট, মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরবের চারটি স্টেশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব গন্তব্যে যাত্রী ও ফ্লাইটের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় আর্থিক লেনদেন ও অপারেশনাল কার্যক্রমও ব্যাপক। ফলে অনিয়মের ঝুঁকিও বেশি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি স্টেশনগুলোতে কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীসেবার মান বাড়বে, রাজস্ব ফাঁকি কমবে এবং সংস্থার ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেলে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগও সংকুচিত হবে।
অন্যদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে ১৭টি উড়োজাহাজ নিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আগামী মাসে ঢাকা-নারিতা রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই রুটের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিমান কর্তৃপক্ষের মতে, জাপানে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতেই নারিতা রুট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা-নেপাল-নারিতা রুটেও ভবিষ্যতে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।

তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্তের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.