১ জুলাই থেকে ড্রোন চালাতে বাধ্যতামূলক সনদ ও ফ্লাইট নিবন্ধন

ভিয়েতনামে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে।

ভিয়েতনামে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ড্রোন ওড়ানোর আগে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে সনদ অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ফ্লাইটের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন ও অনুমতি নেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, দ্রুত বাড়তে থাকা ড্রোন ব্যবহারের কারণে বিমান চলাচল নিরাপত্তা, জাতীয় প্রতিরক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিয়েতনামে চলচ্চিত্র নির্মাণ, ফটোগ্রাফি, কৃষি, নির্মাণ জরিপ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে ড্রোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তুলনামূলক কম দামে ড্রোন সহজলভ্য হওয়ায় ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সঙ্গে বেড়েছে অনিয়ন্ত্রিত উড্ডয়নের ঘটনাও।

সম্প্রতি হ্যানয়ের নোই বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ড্রোন ও ঘুড়ি-সংক্রান্ত তিনটি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ড্রোন রানওয়ের কাছাকাছি উড়ে আসায় একটি যাত্রীবাহী বিমানের উড্ডয়ন পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয় এবং অন্তত ১৬টি ফ্লাইটের সময়সূচি বিঘ্নিত হয়। এর আগে দা নাং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় অবৈধভাবে ড্রোন প্রবেশের কারণে হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন এবং বিমান সংস্থাগুলোর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মনুষ্যবিহীন আকাশযান বিভাগের পরিচালক কর্নেল নগুয়েন ভ্যান ট্রুং জানান, ড্রোন চালকদের কমপক্ষে তিন মাসের প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, নৈতিকতা ও যোগ্যতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে সনদ অর্জন করতে হবে। বর্তমানে বিমান বাহিনী অফিসার স্কুল এই প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান করছে।

সনদ অর্জনের পরও সরাসরি ড্রোন ওড়ানো যাবে না। প্রতিটি উড্ডয়নের আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইলেকট্রনিক পোর্টালের মাধ্যমে নিবন্ধন করে অনুমতি নিতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উড্ডয়নের এলাকা, সময়, রুট এবং নিরাপত্তা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেবে। বিমানবন্দরের আশপাশে পরিচালিত ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানও বাধ্যতামূলক থাকবে।

এছাড়া ২০ জুলাই ২০২৬ থেকে ভিয়েতনামে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন ড্রোন ছাড়া অন্যান্য সব ড্রোনের জন্য পৃথক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হবে। নিবন্ধনের পর প্রতিটি ড্রোনকে একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হবে, যা গাড়ির নম্বরপ্লেটের মতো কাজ করবে। প্রয়োজনে ড্রোনে ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা ডিভাইসও স্থাপন করতে হবে।

কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, সনদ ছাড়া ড্রোন পরিচালনা, নিবন্ধন না করা, অনুমোদিত এলাকা বা সময়ের বাইরে উড্ডয়ন, কিংবা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে বিমানবন্দর, সংরক্ষিত আকাশসীমা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নতুন এই বিধান ড্রোন প্রযুক্তির নিরাপদ ও টেকসই ব্যবহারের পাশাপাশি দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে আশা করছে ভিয়েতনাম সরকার।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN