মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১২ বাংলাদেশি নিহত: সংসদে মন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাতের ফলে বাংলাদেশি প্রবাসীরা নানা ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সরকার প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন নারী ও আটজন শিশু রয়েছেন। যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য দেশ থেকেও প্রয়োজনে প্রবাসী কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
নিহত ১২ বাংলাদেশির মধ্যে একজনকে সংশ্লিষ্ট দেশেই দাফন করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে নয়জনের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। বাকি মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। নিহতদের পরিবারের জন্য সরকার দাফন ব্যয় বাবদ বিমানবন্দর থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
আরিফুল হক চৌধুরী আরও জানান, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন লেবাননে, তিনজন সৌদি আরবে, দুজন সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবং একজন করে ইরাক ও বাহরাইনে প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো সংকটকালে প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করা।
প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়নে বিমানবন্দরগুলোতেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অসুস্থ ও মৃত কর্মীদের পরিবহনের জন্য ঢাকা ও সিলেট বিমানবন্দরে দুটি করে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় আরও দুটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের লাগেজ পরিবহনের সুবিধার্থে ২০০টি নতুন ট্রলি সংগ্রহের কাজ চলছে। আহত ও অসুস্থ যাত্রীদের সহায়তায় ১০টি হুইলচেয়ারও সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী লাউঞ্জ স্থাপন, স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব পদক্ষেপ প্রবাসীদের যাত্রা ও প্রত্যাবর্তনকে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করবে এবং সংকটকালেও সরকার তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।
