মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

গত বছর ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণে রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় এক আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গত বছর ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণে রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় এক আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত ভবনের সামনে নির্মিত স্মৃতিবেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা উপস্থিত থেকে শোক প্রকাশ করেন এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। বিএনসিসি ও স্কাউটসের সদস্যরা সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ এবং সালাম প্রদর্শনের মাধ্যমে নিহতদের প্রতি সম্মান জানান। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল শোক, স্মৃতি ও প্রার্থনার আবহ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক শিক্ষিকা জানান, ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্বাভাবিক করে তুলতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ধরনের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করেছিল। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা অনেকটাই সেই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনও তাদের মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।

এ সময় শিক্ষিকা ফারজানা কাবেরী সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি হায়দার আলী ভবনের ভেতরে ক্লাসরুমে ছিলেন। ছুটি শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান বিষয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। ঘটনার মাত্র এক মিনিট আগে সহকর্মী মাহরিনের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। এরপর তিনি অন্য একটি সেকশনের দিকে যেতেই বিকট শব্দে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই চারদিকে আগুন ও কালো ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে তিনি এবং এক শিক্ষার্থী মাটিতে পড়ে যান। পরে উঠে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে দৌড়ে যেতে বলেন। কিন্তু চারপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বের হওয়ার পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

ফারজানা কাবেরী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি কালেমা পড়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম, মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। বাচ্চারা কাঁদছিল, বলছিল—‘মিস, আমাদের বাঁচান।’ কিন্তু চারদিকে শুধু আগুন। আমি তাদের বলেছিলাম, আল্লাহকে ডাকো। আল্লাহর রহমতেই আমরা সেদিন বেঁচে ফিরতে পেরেছি।”

অনুষ্ঠান শেষে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) নুরন নবী জানান, দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিকেলেও আরও কয়েকটি স্মরণমূলক কর্মসূচি রয়েছে। এসব আয়োজনে বিভিন্ন অতিথি অংশ নেবেন। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং নিহতদের স্মৃতি চিরদিন সম্মানের সঙ্গে ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN