২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বোয়িং ৭৭৭-৯ পাবে এমিরেটস
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও একাধিক বিলম্বের পর অবশেষে বোয়িং ৭৭৭-৯ উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার নতুন সময়সূচি জানিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন এমিরেটস।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও একাধিক বিলম্বের পর অবশেষে বোয়িং ৭৭৭-৯ উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার নতুন সময়সূচি জানিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন এমিরেটস। সংস্থাটি আশা করছে, বহুল আলোচিত এই ওয়াইডবডি বিমানগুলোর প্রথম চালান ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তাদের বহরে যুক্ত হবে।
যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ফার্নবরো ইন্টারন্যাশনাল এয়ার শো ২০২৬-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমিরেটসের প্রেসিডেন্ট টিম ক্লার্ক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বিলম্বের পর বোয়িং ৭৭৭-৯ এখন সার্টিফিকেশনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিমানগুলো সরবরাহ শুরু হবে বলে তারা আশা করছেন।
টিম ক্লার্ক জানান, এমিরেটসের হাতে এই বিমানগুলো আসার কথা ছিল ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে। কিন্তু বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জটিলতা, উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত বাধার কারণে সরবরাহ সময়সূচি বারবার পিছিয়ে যায়। তিনি বলেন, “আমাদের এই বিমানগুলো ২০২০ সালের এপ্রিলেই পাওয়ার কথা ছিল।” তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, ২০২৭ সালের মধ্যেই পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বোয়িং ৭৭৭-৯ হলো বোয়িংয়ের নতুন প্রজন্মের ৭৭৭এক্স (777X) সিরিজের সবচেয়ে বড় সংস্করণ। উন্নত জ্বালানি সাশ্রয়ী ইঞ্জিন, নতুন কম্পোজিট উইং, দীর্ঘ পাল্লার সক্ষমতা এবং অধিক যাত্রী বহনের সুবিধার কারণে এটি বিশ্বের অনেক বড় এয়ারলাইনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উড়োজাহাজ। এমিরেটস এই মডেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের অন্যতম এবং ভবিষ্যতে তাদের দীর্ঘপাল্লার রুট পরিচালনায় এই বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) জানিয়েছে, বোয়িং ৭৭৭-৯-এর সার্টিফিকেশন ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সম্পন্ন হতে পারে। ইতোমধ্যে উড়োজাহাজটির বিভিন্ন ফ্লাইট টেস্ট এবং নিরাপত্তা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়ে চলছে। সার্টিফিকেশন সম্পন্ন হলেই বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে বিমান সরবরাহের পথ উন্মুক্ত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বোয়িং ৭৭৭-৯-এর সরবরাহ শুরু হলে শুধু এমিরেটস নয়, বিশ্বের আরও কয়েকটি বড় এয়ারলাইন তাদের বহর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। দীর্ঘ বিলম্বের কারণে অনেক এয়ারলাইনকে পুরোনো উড়োজাহাজ দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয়েছে। ফলে নতুন এই বিমান বাজারে এলে আন্তর্জাতিক দীর্ঘপাল্লার ভ্রমণে জ্বালানি দক্ষতা, পরিচালন ব্যয় এবং যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।