শাহজালালের ফ্রি শাটল বাসে যাত্রী নেই, লাগেজ রাখারও ব্যবস্থা নেই

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত ও প্রস্থানকারী যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে চালু করা হয়েছে বিনামূল্যের শাটল বাস সার্ভিস।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত ও প্রস্থানকারী যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে চালু করা হয়েছে বিনামূল্যের শাটল বাস সার্ভিস। বয়স্ক, শিশু নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবার, শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি এবং ভারী লাগেজ বহনকারী যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চালুর পর বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। লাগেজ রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, বাসের দীর্ঘ বিরতি এবং প্রচারণার ঘাটতির কারণে অধিকাংশ যাত্রী এখনও হেঁটেই বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছেন।

গত ৮ জুলাই বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ এই সেবার উদ্বোধন করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি বাস টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ থেকে প্রতি ৩০ মিনিট পরপর বিমানবন্দর বাসস্টেশন, জসিম উদ্দীন সড়ক, বিমানবন্দর রেলস্টেশন ও কাওলা হয়ে পুনরায় বিমানবন্দরে ফিরে আসে। পুরো সেবাই বিনামূল্যে।

তবে যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের নকশা বিমানবন্দরের যাত্রীদের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিদেশফেরত ও বিদেশগামী যাত্রীদের সঙ্গে সাধারণত বড় বড় লাগেজ থাকে। কিন্তু বাসে লাগেজ রাখার আলাদা কোনো র্যাক বা সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো কোলে বা চলাচলের পথেই রাখতে হয়। এতে যাত্রীদের ওঠানামা যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক সময় বাসে মাত্র একজন বা দু-একজন যাত্রী থাকছে। আবার বাসের জন্য আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে না চেয়ে বেশিরভাগ যাত্রী ভারী লাগেজ কাঁধে নিয়েই বিমানবন্দর সড়ক বা রেলস্টেশনের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন।

অনেক যাত্রী জানান, তারা শাটল বাস সেবা চালুর বিষয়টিই জানতেন না। বিদেশফেরত এক প্রবাসী বলেন, পাঁচ মিনিট হেঁটেই বিমানবন্দর সড়কে পৌঁছানো যায়, তাই আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করার কোনো অর্থ নেই। তার মতে, ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপর বাস চললে যাত্রী বাড়বে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু বাস চালু করলেই হবে না, যাত্রীবান্ধব পরিকল্পনাও নিশ্চিত করতে হবে। বাসে লাগেজ রাখার আলাদা ব্যবস্থা, কম সময়ের ব্যবধানে সার্ভিস পরিচালনা এবং বাংলা-ইংরেজি উভয় ভাষায় কার্যকর প্রচারণা চালানো হলে এই সেবা প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য সত্যিকারের স্বস্তির মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও সেবাটিকে আরও জনপ্রিয় করতে প্রচারণা ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN