উড়ন্ত ট্যাক্সি ও সুপারসনিক বিমান চালুতে বড় পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচলে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচলে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশটির ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) উড়ন্ত ট্যাক্সি (eVTOL), সুপারসনিক বিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য পরবর্তী প্রজন্মের আকাশযান দ্রুত বাণিজ্যিকভাবে চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আধুনিক বিমান প্রযুক্তির নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

ফার্নবোরো এয়ারশোতে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এফএএর উপ-পরিচালক ক্রিস রোশেলো বলেন, নতুন প্রযুক্তির বিমান চালুর পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সার্টিফিকেশন ও প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো। এসব বাধা দূর করতে সংস্থাটি দ্রুত কাজ করছে।

উড়ন্ত ট্যাক্সির বাণিজ্যিক ব্যবহার ত্বরান্বিত করতে এফএএ ইতোমধ্যে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করেছে। ২৬টি অঙ্গরাজ্যের আটটি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে পরিচালিত এ কর্মসূচি থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতে eVTOL বিমানের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করবে। উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে সক্ষম এসব বৈদ্যুতিক আকাশযান বিমানবন্দর ও শহরের মধ্যে স্বল্প দূরত্বে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। এতে যানজট কমবে এবং যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, সুপারসনিক বিমান ফিরিয়ে আনতেও বড় উদ্যোগ নিয়েছে এফএএ। ২০২৬ সালের জুনে সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থলভাগের ওপর সুপারসনিক উড্ডয়নের ক্ষেত্রে ১৯৭৩ সাল থেকে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দুটি বিধিমালার প্রথমটি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি উড্ডয়ন, অবতরণ এবং সুপারসনিক গতিতে উড়ার সময় গ্রহণযোগ্য শব্দমাত্রা নির্ধারণে আরেকটি বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। দুটি বিধিমালাই ২০২৭ সালের মাঝামাঝি চূড়ান্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

২০০৩ সালে এয়ার ফ্রান্স ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের পরিচালিত কনকর্ড অবসরে যাওয়ার পর সুপারসনিক যাত্রীবাহী বিমানের বাণিজ্যিক যুগের সমাপ্তি ঘটে। তবে নতুন প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব নকশার কারণে আবারও এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আইনি কাঠামো চূড়ান্ত হলে এফএএ ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতুন প্রজন্মের সুপারসনিক বিমান এবং উড়ন্ত ট্যাক্সির সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এরপর ধাপে ধাপে এসব আকাশযান বাণিজ্যিক সেবায় যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শুধু নগর পরিবহন ব্যবস্থায় নয়, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বিমান চলাচলেও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN