পর্যটন খাত পুনরুজ্জীবিত করতে ভিসা নীতিতে শিথিলতা আনছে মিয়ানমার
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে ধাক্কা খাওয়া পর্যটন শিল্পকে আবারও সচল করতে ভিসা নীতিতে বড় ধরনের শিথিলতা এনেছে মিয়ানমার।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে ধাক্কা খাওয়া পর্যটন শিল্পকে আবারও সচল করতে ভিসা নীতিতে বড় ধরনের শিথিলতা এনেছে মিয়ানমার। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে দেশটি নতুন করে ভিসা সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, চলতি বছরে ১৮ লাখ বিদেশি পর্যটককে স্বাগত জানানো, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মিয়ানমারে মোট ৯ লাখ ৭৩ হাজার ২৬৩ জন বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন। আর চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই দেশটিতে ৪ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক প্রবেশ করেছেন। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছে দেশটির পর্যটন কর্তৃপক্ষ।
পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে চীন ও থাইল্যান্ড থেকে আগত পর্যটকদের ওপর। এ লক্ষ্যে মিয়ানমার চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের জন্য ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ (Visa on Arrival) সুবিধা সম্প্রসারণ করেছে। এছাড়া রাশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ দেশের নাগরিকরা আগের মতোই ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন।
পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে মিয়ানমার তার জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর প্রচারও জোরদার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী ইয়াঙ্গুন, ঐতিহাসিক শহর মান্দালয়, ইউনেস্কো স্বীকৃত বাগান, মনোরম ইনলে লেক এবং বিখ্যাত গোল্ডেন রক প্যাগোডা। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এসব গন্তব্যকে নতুনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত থেকেও ধীরে ধীরে মিয়ানমারে ভ্রমণের আগ্রহ বাড়ছে। যদিও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা এখনও সীমিত, তারপরও ভ্রমণসংক্রান্ত অনুসন্ধান বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ইয়াঙ্গুনের বিভিন্ন হোটেলে কক্ষ বুকিংয়ের হারও উন্নত হয়েছে। বর্তমানে ব্যবসায়ী, ধর্মীয় তীর্থযাত্রী এবং বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতিই হোটেল খাতের পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারে গৃহসংঘাত শুরু হলে দেশটির পর্যটন শিল্প বড় ধাক্কা খায়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের মিয়ানমার ভ্রমণে সতর্কতা জারি করে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত কমে যায়।
তবে বর্তমান সরকার মনে করছে, ভিসা নীতিতে শিথিলতা, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিদেশি পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও তা এখনও মহামারির আগে এবং ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের আগের অবস্থায় পৌঁছাতে সময় লাগবে। সে সময় প্রতিবছর প্রায় ৪৭ লাখ বিদেশি পর্যটক মিয়ানমার সফর করতেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ভিসা সুবিধা এবং পর্যটন প্রচারণা সফল হলে মিয়ানমারের পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আসতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশটির অর্থনীতি, হোটেল শিল্প, পরিবহন খাত এবং স্থানীয় ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।