শাহজালালে ৩৬ ভরি স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ৩

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৩৬ ভরি স্বর্ণালংকার, আটটি মুঠোফোন ও তিনটি ল্যাপটপসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন—এপিবিএন।

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৩৬ ভরি স্বর্ণালংকার, আটটি মুঠোফোন ও তিনটি ল্যাপটপসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন—এপিবিএন। বুধবার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিংয়ের নিচতলা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাবিয়া বেগম, বয়স ৪৮ বছর, আকাশ আহমেদ, বয়স ৩৫ বছর এবং মো. জলিল, বয়স ৪৬ বছর। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন—১৩ এপিবিএন জানিয়েছে, বুধবার দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিংয়ের নিচতলায় ওই তিনজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।

এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা দ্রুত সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে এপিবিএনের সদস্যরা তাঁদের আটক করেন। আটক করার পর তাঁদের শরীরে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ২২ ক্যারেটের ৩৯৭ দশমিক ৭ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ ভরি। একই সঙ্গে তাঁদের কাছ থেকে আটটি মুঠোফোন ও তিনটি ল্যাপটপও জব্দ করা হয়।

এপিবিএন জানায়, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার, মুঠোফোন ও ল্যাপটপ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে দেশে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে এসব পণ্য দেশে আনা হতো বলে আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজন দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে চক্রটির সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (অপারেশনস) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় যেকোনো ধরনের অপরাধ দমন এবং চোরাচালান প্রতিরোধে এপিবিএন সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বিশেষ করে মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে পেশাদারত্বের সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরকে চোরাচালানমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.