২০ বছরে ১৫টি ট্রান্সআটলান্টিক রুট বন্ধ করেছে আমেরিকান এয়ারলাইন্স
গত দুই দশকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যগামী ট্রান্সআটলান্টিক নেটওয়ার্কে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা আমেরিকান এয়ারলাইন্স (American Airlines)।
গত দুই দশকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যগামী ট্রান্সআটলান্টিক নেটওয়ার্কে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা আমেরিকান এয়ারলাইন্স (American Airlines)। ২০০৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সংস্থাটি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মোট ১৫টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করেছে। পরিবর্তিত যাত্রী চাহিদা, বহর আধুনিকীকরণ এবং অংশীদার এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির কারণে এসব রুট থেকে সরে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হওয়া গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জার্মানির বার্লিন টেগেল, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার, আইসল্যান্ডের কেফলাভিক, ইতালির বোলোনিয়াসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি শহর। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের একটি গন্তব্য থেকেও ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করেছে এয়ারলাইনটি।
অনেক রুটই ছিল স্বল্পমেয়াদি। উদাহরণ হিসেবে ডালাস–কেফলাভিক এবং ফিলাডেলফিয়া–বোলোনিয়া রুটে সীমিত সময় ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছিল। এসব রুটে মূলত বোয়িং ৭৫৭ ও বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হতো। তবে যাত্রী চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় এবং বহর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসায় পরবর্তীতে রুটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বন্ধ হওয়া বেশ কয়েকটি রুট আমেরিকান এয়ারলাইন্স ইউএস এয়ারওয়েজের (US Airways) সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব রুট বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় ধাপে ধাপে সেগুলো বাতিল করা হয়।
আফ্রিকা মহাদেশে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি আমেরিকান এয়ারলাইন্স। ২০২০ সালে ক্যাসাব্লাঙ্কা (মরক্কো) রুট চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও কোভিড-১৯ মহামারি এবং বাজার পরিস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। ফলে এখন পর্যন্ত আফ্রিকার কোনো গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে আফ্রিকা ও ইউরোপের কিছু গন্তব্যে যাত্রী পরিবহনের জন্য আমেরিকান এয়ারলাইন্স তাদের ওয়ানওয়ার্ল্ড (oneworld) জোটভুক্ত অংশীদারদের ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং কাতার এয়ারওয়েজের মাধ্যমে যাত্রীরা সংযোগ ফ্লাইটে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
বর্তমানে আমেরিকান এয়ারলাইন্স প্রতিদিন গড়ে ৪৮টি ট্রান্সআটলান্টিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেল্টা এয়ার লাইনস প্রতিদিন প্রায় ৮২টি এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স প্রায় ৬৬টি ট্রান্সআটলান্টিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ফলে এই বাজারে আমেরিকান এয়ারলাইন্স এখনও প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
বিমান খাতের বিশ্লেষকদের ধারণা, বহর আধুনিকীকরণ, নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ সংযোজন এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আমেরিকান এয়ারলাইন্স তাদের আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্কে আরও পরিবর্তন আনতে পারে। যাত্রী চাহিদা, পরিচালন ব্যয় এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের রুট পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে সংস্থাটি।