কেবিন ক্রুদের ধর্মঘটে ওয়েস্টজেটের প্রায় ৬০০ ফ্লাইট বাতিল

কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান সংস্থা ওয়েস্টজেটের (WestJet) কেবিন ক্রুদের ধর্মঘটের কারণে দেশটির ব্যস্ততম গ্রীষ্মকালীন ছুটির সপ্তাহান্তে বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান সংস্থা ওয়েস্টজেটের (WestJet) কেবিন ক্রুদের ধর্মঘটের কারণে দেশটির ব্যস্ততম গ্রীষ্মকালীন ছুটির সপ্তাহান্তে বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৬০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা হাজারো যাত্রীর সূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে।

ওয়েস্টজেট বর্তমানে কানাডা এবং বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে। ধর্মঘটের কারণে সংস্থাটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও ওয়েস্টজেট এনকোরের কিউ৪০০ উড়োজাহাজ পরিচালিত ফ্লাইট এবং অংশীদার বিমান সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত কিছু কোড-শেয়ার ফ্লাইট চালু রয়েছে।

ধর্মঘটের মূল কারণ কেবিন ক্রুদের বেতন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। বিশেষ করে উড়োজাহাজ আকাশে ওড়ার আগে যাত্রী বোর্ডিং, নিরাপত্তা পরীক্ষা, কেবিন প্রস্তুতসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের সময়ের পারিশ্রমিক নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিমান চলাচল শিল্পে এই সময়কে সাধারণভাবে ‘গ্রাউন্ড পে’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ইউনিয়নের দাবি, কেবিন ক্রুরা প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে বাধ্য হন।

কিউপিই ৮১২৫ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নোটিশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘট শুরু হয়। এর আগে ইউনিয়নের সদস্যরা প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোটে ধর্মঘটের পক্ষে মত দেন। যদিও শ্রমিক আন্দোলন শুরু হওয়ার পরও উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ওয়েস্টজেট জানিয়েছে, তারা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, যেখানে কেবিন ক্রুদের পেশাদারিত্ব ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ফেরত অথবা বিকল্প ফ্লাইটে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কানাডার কর্মসংস্থানমন্ত্রী প্যাটি হাজদু ধর্মঘটকে ‘হতাশাজনক’ উল্লেখ করে উভয় পক্ষকে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সরকার এ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

কানাডার বিমানযাত্রী অধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো ফ্লাইট বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে যাত্রীদের পরবর্তী উপলব্ধ ফ্লাইটে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিযোগী অন্য কোনো বিমান সংস্থার ফ্লাইটেও যাত্রীর ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া যাত্রা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলে যাত্রীরা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার রাখেন। দীর্ঘস্থায়ী এই বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট সূচিতে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.