টাইফুন ‘ডলফিনে’র তাণ্ডবে জাপানে ৫০০ ফ্লাইট বাতিল

ক্যাটাগরি-১ শক্তির টাইফুন ‘ডলফিনে’র প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানে ব্যাপক দুর্যোগ দেখা দিয়েছে।

ক্যাটাগরি-১ শক্তির টাইফুন ‘ডলফিনে’র প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানে ব্যাপক দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। প্রবল বাতাস, ভারি বৃষ্টি এবং উঁচু ঢেউয়ের আশঙ্কায় দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানায়, টাইফুনটি বর্তমানে কিউশু অঞ্চল ও ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের মধ্যবর্তী দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, টাইফুনটির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, স্থলভাগের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময়ও এটি তার শক্তি ধরে রাখতে পারে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাপানের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রুটে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এয়ারলাইনসগুলো ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর ফলে হাজারো যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা বিঘ্নিত হয়েছে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সর্বশেষ ফ্লাইট সূচি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টাইফুনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কাগোশিমা ও ওকিনাওয়া প্রিফেকচার। এসব অঞ্চলের প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দাকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা থাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা আরও জানিয়েছে, টাইফুনটির সঙ্গে তীব্র বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের একটি রৈখিক বৃষ্টি বলয় (Linear Rain Band) তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অল্প সময়ের মধ্যে অতিবৃষ্টি হয়ে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি, ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

দুর্যোগের প্রভাবে শিল্প খাতেও প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা টয়োটা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শুক্রবার তাদের নয়টি কারখানায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে টাইফুনের প্রভাবে কিউশুর দক্ষিণাঞ্চলে প্রবল বাতাস ও ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কুমামোটো প্রিফেকচারও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যেখানে গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬ হাজার ৭০০ মানুষ এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন, ফলে নতুন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জন্য অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ ছাড়া জাপান আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই ঝড়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমের কারণে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.