টাইফুন ডলফিনে সাংহাইয়ে বাতিল ৯৪৩ ফ্লাইট

চীনের পূর্বাঞ্চলে টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে বিমান ও স্থল যোগাযোগ।

চীনের পূর্বাঞ্চলে টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে বিমান ও স্থল যোগাযোগ। সাংহাইয়ের দুটি প্রধান যাত্রীবাহী বিমানবন্দরে অন্তত ৯৪৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ট্রেন ও গণপরিবহন চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) টাইফুনের প্রভাবে চীনের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। তবে ঝড়টি দুর্বল হয়ে আসায় কিছু শহরে ধীরে ধীরে গণপরিবহন ও বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে রোববার টাইফুন ডলফিন ঝেজিয়াং প্রদেশের উপকূলে দুই দফা আঘাত হানে। পরে স্থলভাগে প্রবেশের পর ঝড়টি ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে শুরু করে। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনএমসি) সোমবার সকালে টাইফুনটির জন্য সর্বনিম্ন মাত্রার সতর্কতা জারি করেছে।

তবে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ব ও মধ্য চীনের কয়েকটি এলাকায় আগামী এক দিনও ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব ও দক্ষিণ ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যার সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সাংহাইয়ের দুটি প্রধান বিমানবন্দরে ৯৪৩টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অনলাইনে প্রকাশ করেছে। আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সাংহাইয়ে স্থানীয় ট্রেনসহ বিভিন্ন গণপরিবহন সেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

ঝেজিয়াংয়ের নিংবো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার দুপুর থেকে বিমান চলাচল পুনরায় শুরুর কথা জানানো হয়। তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, টাইফুনের প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হতে পারে।

প্রাদেশিক রাজধানী হাংঝুতেও সোমবার সকালে সাবওয়ে চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। এর আগে রোববার ঝড়ের কারণে কয়েকটি ট্রেনের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এদিকে টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে শুধু পূর্বাঞ্চল নয়, উত্তর চীনেও চরম আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার বেইজিংয়ের পাঁচটি জেলায় ভারি বৃষ্টির জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। কয়েকটি এলাকায় ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

টাইফুন ডলফিনের আগমনের আগে চীনে এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নৌযান ও অন্যান্য পরিবহন চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে টাইফুন নউল দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশে আঘাত হানে। সে সময় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, চলতি বছরে চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় ছিল এটি।

এর আগেও টাইফুন মেইসাকসহ একাধিক শক্তিশালী ঝড়ে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.