মিয়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি বিমানবন্দরে দুর্ঘটনাকবলিত অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমানের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি বিমানবন্দরে দুর্ঘটনাকবলিত অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমানের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রানওয়ে থেকে ছিটকে বিমানটি দুটি গাড়িতে আঘাত করার ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুর্ঘটনাস্থলে তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) প্রধান জেনিফার হোমেন্ডি জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি গাড়ির একটি ছিল পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বহনকারী একটি ভ্যান। দুর্ঘটনার সময় ওই ভ্যানটিতে সাতজন ছিলেন।
তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে যাওয়ার পর বিমানবন্দরের সীমানার বেড়া ভেঙে একটি জনসাধারণের সড়কে চলে যায়। সেখানে একটি এসইউভিকে ধাক্কা দেয়। এরপর আরও একটি বেড়া ভেঙে বিমানটি এমন একটি এলাকায় ঢুকে পড়ে, যেখানে রোবোট্যাক্সি রাখা ছিল।
জেনিফার হোমেন্ডি জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা দুটি গাড়ির আরোহী ছিলেন। বিমানের দুই পাইলটের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। তবে তদন্তের স্বার্থে ক্রুদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করে হোমেন্ডি বলেন, উদ্ধারকাজের পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং শত শত ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
এনটিএসবি প্রধান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার আগে বিমানটির গতি, উচ্চতা, দিকনির্দেশনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ককপিটে পাইলটদের কথোপকথন বিশ্লেষণে এসব রেকর্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্ধার করা রেকর্ডারগুলো বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য এনটিএসবির কাছে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান চলাকালে তদন্তকারীদের বিমানটিতে প্রবেশের কাজ কিছুটা অপেক্ষা করতে পারে। এই মুহূর্তে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ১৯৯৪ সালে তৈরি একটি বোয়িং ৭৬৭। বিমানটি মিয়ামিভিত্তিক ২১ এয়ার এলএলসি পরিচালনা করত এবং অ্যামাজনের চুক্তিভিত্তিক কার্গো পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। দুর্ঘটনার সময় এটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে আসছিল।
প্রথম যে গাড়িটিতে বিমানটি আঘাত করে, সেই ইকোনোলাইন ভ্যানটি পুরোপুরি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এনটিএসবি প্রধান। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এখন রেকর্ডার বিশ্লেষণ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।