ইরাক থেকে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষায় যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা কত দ্রুত পূরণ করা সম্ভব—এ নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইরাক থেকে আন্তর্জাতিক জোটের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। এর আওতায় কুর্দি অঞ্চলে মোতায়েন থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোও সরিয়ে নেওয়া হবে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্লোজ-ইন রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (সি-র‍্যাম)।

বছরের পর বছর ধরে এসব ব্যবস্থা ইরাকে মার্কিন ও জোটের ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে কুর্দি অঞ্চলের রাজধানী এরবিলের আশপাশে থাকা সামরিক স্থাপনা, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও বিমান পরিচালনা অবকাঠামোর নিরাপত্তায় এগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। এতে আইএসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক অভিযানের সময়সীমা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এরপর জোটের ভূমিকা ধীরে ধীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান থেকে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার ফলে ইরাকের সীমিত নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ইরাকের আকাশসীমা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও সামরিক বিমানের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

ইরাকি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মান আল-জুবুরি মনে করেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহারের পর ইরাকের আকাশসীমা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, যেকোনো পক্ষের জন্য আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের সুযোগ বাড়তে পারে।

এই ঘাটতি পূরণে ইরাক নিজস্ব সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনায় রাডার, কমান্ড অবকাঠামো এবং দূরপাল্লা, মাঝারি পাল্লা ও স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরাকি সামরিক বাহিনী প্রথমে ছয় বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা করলেও প্রধানমন্ত্রী সময়সীমা কমিয়ে তিন বছরে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু অস্ত্র কেনাই যথেষ্ট নয়; দক্ষ জনবল, প্রশিক্ষণ, পরিচালন সক্ষমতা এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ও প্রয়োজন। ফলে মার্কিন ব্যবস্থা প্রত্যাহারের পর তৈরি হওয়া নিরাপত্তা শূন্যতা দ্রুত পূরণ করা ইরাকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.