মার্কিন বাজারে বোম্বার্ডিয়ারের বিমান বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কানাডার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ারের উড়োজাহাজ বিক্রি নিষিদ্ধ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কানাডার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ারের উড়োজাহাজ বিক্রি নিষিদ্ধ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বের মধ্যেই ট্রাম্পের এমন বক্তব্য নতুন করে দুই দেশের সম্পর্ক এবং বিমানশিল্পে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আর বোম্বার্ডিয়ারের বিমান বিক্রি করা যাবে না। তিনি প্রতিষ্ঠানটির পণ্যকে যথেষ্ট ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, বোম্বার্ডিয়ার যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের বিমান বিক্রি করতে চায়, তাহলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই উৎপাদন করতে হবে। একই সঙ্গে আমেরিকাকে ‘পিগি ব্যাংক’ বা অর্থ নেওয়ার জায়গা হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প এই হুমকি দিয়েছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদে নেওয়া শুল্কনীতির কারণে কানাডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর জবাবে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে ট্রাম্প কীভাবে বোম্বার্ডিয়ারের বিমান বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদন পাওয়া বোম্বার্ডিয়ারের জেটগুলোর সরবরাহ কীভাবে বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি।
জানা গেছে, বোম্বার্ডিয়ারের বিমানগুলো এমন একটি বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত, যা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই বাস্তবায়িত হয়েছিল। ফলে বর্তমান হুমকি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা সম্ভব হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এয়ারোস্পেস খাতের বিশ্লেষক রিচার্ড আবোলাফিয়া মনে করেন, ট্রাম্পের এই হুমকির কারণে কোনো গ্রাহক তাৎক্ষণিকভাবে বোম্বার্ডিয়ারের অর্ডার বাতিল করবেন না। একই সঙ্গে কীভাবে মার্কিন বাজারে বিমান বিক্রি আটকে দেওয়া হবে, সেটিও পরিষ্কার নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বোম্বার্ডিয়ারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কর্মী এবং প্রায় ২ হাজার ৮০০ মার্কিন সরবরাহকারী রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির কারখানা ও একাধিক সার্ভিস সেন্টার রয়েছে।
বোম্বার্ডিয়ার জানিয়েছে, তারা প্রতি বছর মার্কিন সরবরাহকারীদের পেছনে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে শুধু কানাডার কোম্পানিই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সরবরাহকারী ও কর্মসংস্থানও প্রভাবিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে দুই দেশের চলমান বাণিজ্যিক উত্তেজনার গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বোম্বার্ডিয়ারের বিমান বিক্রি বন্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরকারি নির্দেশনা এখনো আসেনি। ফলে ট্রাম্পের হুমকি শেষ পর্যন্ত বাস্তব নীতিতে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।