ইউনাইটেড এয়ারে আগ্রহ পাচ্ছেন না প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা

2025902বন্ডে আশানুরূপ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ পাচ্ছে না পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ লিমিটেড।

কোম্পানি সূত্র জানায়, বন্ড ছেড়ে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে পুঁজিবাজার থেকে ২২৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিলো ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষের।

কিন্তু ঋণে জর্জরিত কোম্পানিতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ ভেবে আগ্রহী হচ্ছে না প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

যদিও মোবাইল ফোনে রোবরার (২৩ অক্টোবর) জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে এর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আগামী নভেম্বর মাসেই প্রাতিষ্ঠানিক ইনভেস্টরদের কাছ থেকে বন্ডের মাধ্যমে ২২৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এই কার্যক্রমের দায়িত্বে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, তারা যথেষ্ট পরিমাণ সহযোগিতা করছে। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যে ইনভেস্টর পাবো’।

আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার স্বপ্না রায় এ প্রসঙ্গে বাংলানিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক ইনভেস্টরদের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে আরো এক বছর (আগামী জুন পর্যন্ত) সময় আছে। বিনিয়োগকারী না পাওয়া গেলে সময় বাড়‍াতে কমিশনে নতুন করে আবেদন করতে পারবে কোম্পানিটি।

জানা গেছে, বন্ডের ২২৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে বিদেশ থেকে ‍উড়োজাহাজ কিনতে ডাউন পেমেন্ট, কোম্পানির ভবন নির্মাণ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বকেয়া পরিশোধ এবং অত্যাধুনিক পদ্ধতির রিজার্ভ ফান্ড তৈরিতে।
এর মধ্যে ১৪ মিলিয়ন ডলার (১১২ কোটি টাকা) ডাউন পেমেন্ট দেওয়া হবে। উত্তরায় কোম্পানির নিজস্ব ৫ কাঠা জমির ওপর ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ১০-১২ কোটি টাকা বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বকেয়া দেওয়া হবে।

পাশাপাশি ইউনাইটেড এয়ারের টিকিট কাউন্টারগুলো অত্যাধুনিক মানের করতে রিজার্ভ রাখার হবে।
এর আগেও প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এবং রাইট শেয়ার ছেড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে থেকে ৪১৫ টাকা সংগ্রহ করে কোম্পানিটি। তারপরও দেউলিয়া দশা কাটছে না কোম্পানিটির।

সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির ব্যাংক ঋণ রয়েছে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা। এর মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ ১৭৬ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং স্বল্প মেয়াদী ঋণ রয়েছে ১১৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এই ঋণের পাশাপাশি বেবিচক পাবে প্রায় দেড় শ’ কোটি টাকা।

দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ১১টি উড়োজাহাজ সংস্কার ও নতুন আরো সাতটি উড়োজাহাজ কেনার খরচ, চলতি বছরের প্রথম থেকেই বাধ্যতামূলক ছুটি পাঠানো কর্মকর্তাদের বকেয়া বেতন ও অনান্য পাওনা এবং অফিস ব্যয় মেটাতে প্রয়োজন অন্তত ৫শ’ থেকে ৬শ’ কোটি টাকা।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.