সন্ধ্যায় বলা কথা রাতেই ভুলে গেলেন এইচ এম এরশাদ

সন্ধ্যায় বলা কথা রাতেই ভুলে গেলেন এইচ এম এরশাদ।

‘বোন’ শেখ হাসিনাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে ঢাকা-১৭ আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। এ ছাড়া উন্মুক্ত (আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের প্রার্থী রয়েছে) ১৪৬টি আসন থেকেও জাপার প্রার্থীদেরও সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেওয়ার তিন ঘণ্টা পর এরশাদের পক্ষে গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, উন্মুক্ত আসনগুলো জাপার কোনো প্রার্থী সরে দাঁড়াচ্ছেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে এরশাদ বলেন, মহাজোট ব্যতীত জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা মুক্তভাবে নিজ নিজ আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। কেউ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না।

এর আগে সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। এতে বলা হয়, ‘মহাজোটের বৃহত্তর স্বার্থে এবং মহাজোটের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনবোধে বিভিন্ন আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে জাতীয় পার্টির প্রতিটি নেতা–কর্মীকে মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে একত্রে কাজ করার অনুরোধ করছি। মহাজোটের স্বার্থে আমি নিজেও ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকবর হোসেন পাঠান ফারুককে সমর্থন করছি।’

মহাজোটের শরিক দল হিসেবে ২৫টি আসন থেকে নির্বাচন করছে জাপা। এ ছাড়া ১৪৭ আসনে দলের প্রার্থী রয়েছে। ঢাকার আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এরশাদ এখন রংপুর-৩ আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এককভাবে নির্বাচন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উন্মুক্ত আসনে জাপা প্রার্থীরা থাকছেন কি না, একাধিকবার জানতে চাওয়া হলে এরশাদ স্পষ্ট করেই তখন বলেছিলেন, ‘তারা থাকবে না।’

এরশাদ বলেন, ‘আমার বোন শেখ হাসিনাকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। আমি নির্বাচনে “বোন” শেখ হাসিনাকে সর্বত্র সহযোগিতা করব।’

নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘আমি নির্বাচন নিয়ে কথা বলব। পুলিশ নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার আমার নেই। তোমরা সবাই আমার চেয়ে ভালো জানো কী হচ্ছে না হচ্ছে।’

সারা দেশে নির্বাচনী সহিংসতা হচ্ছে—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এরশাদ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় সহিংসতা হয়। এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতি। আমরা নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট। নির্বাচন কমিশন আমাদের পক্ষে আছে।’

‘নির্বাচন কমিশন আমাদের পক্ষে আছে’—এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করা হলে এরশাদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সব সময় সরকারের পক্ষে থাকে। জনগণ সরকারের পক্ষে আছে।

নির্বাচন কমিশন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এরশাদ বলেন, মাহবুব তালুকদার একটু অন্যভাবে কথা বলছেন। তাঁর সঙ্গে তাঁর ভালো পরিচয় রয়েছে। তিনি একটু আইডিয়ালিস্টিক (আদর্শবাদী) লোক। সে জন্য মন খারাপ করার কিছু নেই।

সব দলের জন্য সমান সুযোগ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘কোনো দিন কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল?’

নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু আছে কি না, জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, ‘এ প্রশ্নের উত্তর তো আমি দিতে পারব না। তোমরা সাংবাদিক জনগণের মনের কথা জানো। আমাদের প্রার্থী জয়ী হবে, এটা আমি জানি।’

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.