করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকারের ঘোষিত ব্যাংক ঋণে, সাড়ে চার শতাংশ সুদের হার অনেক বেশি বলে মনে করছে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্র অনুযায়ী, চলতি মূলধনের ৩০ শতাংশ ঋণ পাবে সংস্থাগুলো, যা অপ্রতুল বলে দাবি এয়ারলাইন্সগুলোর। পর্যাপ্ত ঋণ না পেলে, জরুরি খরচ মিটিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেয়া কঠিন হবে বলে জানান তারা। এ খাতের জন্য পৃথক প্রণোদনা প্যাকেজ চান খাত সংশ্লিষ্টরা।
প্রায় দেড়- মাস ধরে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় অস্তিত্ব সংকটে দেশী চারটি বিমানসংস্থা। আয় না থাকলেও উড়োজাহাজ লিজের কিস্তি, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমানবন্দরের চার্জ, কর ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধে বিপুল ব্যয় রয়ে গেছে। এই সংকটে, সরকার ঘোষিত সাড়ে চার শতাংশ সুদে, চলতি মূলধনের মাত্র ৩০ শতাংশ ঋণ সুবিধা, এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য যথেষ্ট নয়, এমন দাবি বিমান সংস্থাগুলোর।
১৮টি উড়োজাহাজের বড় বহর নিয়ে বেশি বিপাকে আছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চলতি মাসে ৬২৮ কোটি টাকা ব্যয় থাকলেও করোনার কারণে আয়ের পথ প্রায় বন্ধ। প্রতিষ্ঠান চালাতে সোনালী ব্যাংকের কাছে দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়েছে সংস্থাটি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এমডি মোকাব্বির হোসেন বলেন, এই মাসে আমার এয়ারক্রাফট পরিচর্যার জন্য লাগবে ২৬৬ কোটি টাকা। স্থায়ী ব্যয় আছে দুইশ’ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৬২৮ কোটি টাকা। লোন পেলে আমরা বলতে পারবো কিভাবে কত খরচ দেয়া হবে।
বিমানবন্দরের সব ধরনের চার্জ ও কর মওকুফের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় জেট ফুয়েলের দাম কমানোর আহ্বান এয়ালাইন্সগুলোর।
রিজেন্ট এয়ার উপদেষ্টা আশীষ রায় বলেন, ফুয়েলের দাম কমে গেছে তাই আমরা চাচ্ছি, ইম্পোর্ট দামে যেই ফুয়েল আছে সেটা করা হক। সরকারি ট্যাক্স আপাতত বন্ধ করলে অনেক উপকার হবে।
আয় কমলেও বিমানবন্দরের চার্জ কমানোর বিষয়ে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান।
সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান মার্শাল মফিদুর বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোন কোন ব্যাপারে চার্জগুলো মওকুফ করা যায় সে ব্যাপারে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।
দেশে’র বিমান পরিবহন খাতে ৭০ শতাংশ ব্যবসা বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে। দু:সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে বাকীটাও বিদেশিদের হাত চলে যাবে বলে আশঙ্কা তাদের।