দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর টিকিটের দাম ৫০ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা

দাম না বাড়ালে দেউলিয়া হতে হবে

করোনা সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সীমিত পরিসরে বিমান চলাচল শুরু হলেও তাতে থাকবে নানা ধরনের বাধ্যবাধকতা। আগের মতো শতভাগ যাত্রী নিতে পারবে না ফ্লাইটগুলো। যাত্রী ও ক্রুদের মেনে চলতে হবে নানা ধরনের কমপ্লায়েন্স। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে ফ্লাইট চলাচলে আনা হচ্ছে অনেক পরিবর্তন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইনসগুলোকেও নতুন নিয়মেই চালাতে হবে ফ্লাইট। ফলে বিমান সংস্থার পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাবে, বাড়বে টিকিটের দাম, কমবে যাত্রী।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে দেশে লকডাউন জারিতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ছোট-বড় সব এয়ারলাইনস। আবার উড্ডয়ন শুরু হলে মাস্ক পরা, উড়োজাহাজ নির্বীজন বা জীবাণুমুক্ত করা বাধ্যতামূলক করাসহ নানা ধরনের নিরাপত্তা নির্দেশনা মানতে হবে। করোনা সংক্রমণ রোধ করে ফ্লাইট পরিচালনা করতে বিমান সংস্থাগুলোকে আরো নানা ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব বাড়তি সতর্কতায় আকাশপথে যাত্রী কমে যেতে পারে। এতে করোনাবিধ্বস্ত বিমান সংস্থার আয় কমে যাবে। বিমান সংস্থাগুলোর একীভূত হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) মহাপরিচালক আলেকজান্দ্রি দে জুনিয়াক বলেছেন, ‘আইকাও কিংবা সরকার যদি উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে শারীরিক দূরত্ব কার্যকরের নির্দেশ দেয়, তবে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ আসন ফাঁকা থাকবে এবং এয়ারলাইনসকে তাদের টিকিটের দাম অন্তত ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে হবে। অথবা দেউলিয়া হয়ে পড়তে হবে। কেননা পুরনো দামে টিকিট বিক্রি করতে হলে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে, যাতে সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হবে।’

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিমান চলাচল শুরু করতে চাই। আমরা এয়ারলাইনস এবং বিমানবন্দরগুলোকে এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলেছি। সবাইকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। বিমানের ভেতর পুরো ছিটে যাত্রী নিতে পারবে না। একটি বিমানবন্দরে তিনটি প্লেন একসঙ্গে যাওয়ার সক্ষমতা থাকলেও ৪৫ মিনিট পর পর প্লেনের যাত্রী আসবে। প্রতিটি উড়োজাহাজ অবতরণের পর সংক্রমণমুক্ত করাসহ বেশ কিছু সুরক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট কিনতে হবে।’

এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবির) মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘করোনাভাইরাসে কিভাবে আকাশপথে যাত্রী পরিবহন হবে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি তার গাইডলাইন তৈরি করেছে। আমরা তা মেনে চলতে প্রস্তুত আছি। তবে কমপ্লায়েন্সের কারণে সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহনসহ নানা রকম সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে বিমান ভাড়া বাড়তে পারে। আগের মতো সস্তা থাকবে না, এটা বলা যায়।’

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক দূরত্ব, বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা, কেবিন ও ককপিট ক্রুদের পিপিই ব্যবহার, এমনকি আসনেও পরিবর্তনসহ বেশ কিছু নতুনত্ব দেখা যাবে।

করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি বাড়ার কারণে বিমান চলাচলের নিষেধাজ্ঞাও ১৬ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে বেবিচক। আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ৭ মে পর্যন্ত বন্ধ রেখেছিল বেবিচক।

Comments (0)
Add Comment