অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো

প্রণোদনাসহ বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন

দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস শুধু লাখ লাখ মানুষের প্রাণই কেড়ে নিচ্ছে না, বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রতিটি খাত পর্যন্ত নাস্তানাবুদ করে ফেলছে। বিশেষ করে সারা বিশ্বের এয়ারলাইন্স ব্যবসা তথা অ্যাভিয়েশন খাতকে একেবারে খাদের কিনারে ছুড়ে ফেলেছে এ মহামারী। এমতাবস্থায় দেশের এয়ারলাইন্সগুলোও কঠিন সময় পার করছে। করোনার মারাত্মক ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের প্রণোদনাসহ বিশেষ সহযোগিতা চাইছে। অন্যথা দেশের এয়ারলাইন্স ব্যবসার ডানা ভেঙে পড়বে বলে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশে এয়ারলাইন্স ব্যবসায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছাড়াও বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা, নভো এয়ার ও রিজেন্ট সক্রিয়। সব কটি প্রতিষ্ঠানই কঠিনতম সময় পার করছে। যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকার ফলে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ তার কর্মীদের ৩ মাসের ছুটিতে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ বিমান প্রথমে কর্মীদের ওভারটাইম বন্ধ করেও খরচের ভারসাম্য সামলাতে না পেরে সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

বিমানের বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে তাদের সরকারিভাবে প্রণোদনাসহ বিশেষ সহযোগিতা দরকার। দেশের অ্যাভিয়েশন খাত কোথায় ঠেকে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় সংশ্লিষ্টরা।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে চারটি সংস্থাকেই। করোনাযুদ্ধে টিকে থাকতে তিনটি বেসরকারি সংস্থাকে তিন বছরের জন্য সিভিল অ্যাভিয়েশন চার্জ মওকুফ, নীতি সহায়তা এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রণোদনার অর্থ দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও (বেবিচক) প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বরাবর পাঠানো চিঠিতে এমন অনুরোধ করা হয়েছে।

বিমান সংস্থাগুলোর মতে, ফাইট অপারেশন বন্ধ থাকলেও কর্মী বাহিনীর বেতন, লিজে আনা উড়োজাহাজের ব্যয়, ঋণের কিস্তি, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সবই বহন করতে হচ্ছে। বরং বসিয়ে রাখা উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় আগের চেয়ে বেশি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অ্যাভিয়েশন খাত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। বাংলাদেশ বিমান নিজের খরচে চলে। সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি রাজস্ব আয় করে। অথচ প্রতিষ্ঠান দুটির উপার্জন বন্ধ। অথচ নিয়মিত খরচ তো রয়েছেই। এর বাইরে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর অবস্থাও খারাপ। বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো তাদের কর্মীদের ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে। তাই কীভাবে অ্যাভিয়েশন খাতকে এগিয়ে নেওয়া যায় এবং করোনা পরিস্থিতির পর স্বাভাবিক হয়ে আসে সব কিছু তা-ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বিমান চলাচল স্থগিত থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নামিদামি বিমান সংস্থাকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা ছাড় ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

Comments (0)
Add Comment