জেট ফুয়েলের চাহিদা কমেছে, বৃদ্ধিতে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে

নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীতে আকাশসেবা খাত বড় একটি ধাক্কা খেয়েছে। দেশে দেশে লকডাউন চলায় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। সীমিত রয়েছে পণ্যবাহী উড়োজাহাজ চলাচলও। এতে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের চাহিদা রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। সহসাই এ চাহিদায় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা মহামারীর আগের অবস্থানে ফিরতে ২০২২ সাল লেগে যেতে পারে। এমনটাই মনে করছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস। খবর বিজনেস ইনসাইডার ও রয়টার্স।

সম্প্রতি বিজনেস ইনসাইডারের আয়োজন করা একটি অনলাইন আলোচনায় অংশ নেন গোল্ডম্যান স্যাকসের গ্লোবাল কমোডিটি রিসার্চ বিভাগের প্রধান জেফ কুইরি। এ সময় তিনি বলেন, বৈশ্বিক আকাশসেবা খাতে করোনা মহামারীর ধাক্কাটা নজিরবিহীন। ইতিহাসে এ খাত আগে কখনই এত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি। জেট ফুয়েলের চাহিদায় রীতিমতো ধস নেমেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা মহামারীর আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে ২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত লাগতে পারে।

তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দূর হলেও মানুষ আগের মতো ভ্রমণ করতে চাইবে না। এতে উড়োজাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে যেতে পারে। মূলত এ কারণে জেট ফুয়েলের বৈশ্বিক চাহিদা দ্রুত বাড়বে না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সিইও ডেভ ক্যালথন বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে, আকাশসেবা খাত ঘুরে দাঁড়াবে—আমরা এমনটাই আশা করছি। তবে বিশ্বজুড়ে মানুষের চলাচল ২০১৯ সালের পর্যায়ে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে দুই-তিন বছর সময় লাগতে পারে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে এমন বাস্তবতা মেনে নিয়েই খাতসংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হবে। তাই করোনা পরবর্তী সময়েও এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

উল্লেখ্য, জ্বালানি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাস্ট্যার্ড এনার্জি জানিয়েছে, চলতি বছর জেট ফুয়েলের বৈশ্বিক চাহিদা আগের বছরের তুলনায় দৈনিক গড়ে ২৪ লাখ ব্যারেল বা ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যেতে পারে।

Comments (0)
Add Comment