ইসরায়েলি হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপের আহ্বান লেবাননের

ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে লেবানন।

ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে লেবানন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই গত ৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এ আহ্বান জানান।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট বলেন, সাম্প্রতিক হামলা একটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’, যা এখন শুধু সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। হামলায় সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একটি দীর্ঘদিন ধরে অচল হাসপাতালও ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবানন।

প্রেসিডেন্ট আউন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি, এসব হামলা ও লঙ্ঘন বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গত জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি তৈরিতেও ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাবাতিয়াহ আল-ফাওকা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুইজন নিহত হন। কাছের আরব সেলিম গ্রামে আরও দুই নারী নিহত হন। এছাড়া নাবাতিয়াহ শহর, নাবাতিয়াহ আল-ফাওকা ও কাফার রুম্মান এলাকায় বেশ কয়েকজন নারী ও তিন শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরে নাবাতিয়াহর কাছে একটি পার্কিং এলাকায় চালানো আরেকটি বিমান হামলায় আরও তিনজন নিহত হওয়ার কথা জানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

নাবাতিয়াহর মেয়র আব্বাস ফখরুদ্দিন হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, লেবানন সরকারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং অন্তত দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতে হবে। তার দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় স্থানীয় সরকারি ভবনগুলো দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লেবানন-ইসরায়েল সংঘাতের পেছনে হিজবুল্লাহর ভূমিকা নিয়েও উত্তেজনা রয়েছে। মার্চে ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। এতে চার হাজার তিনশরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যে আলোচনার কাঠামো তৈরি হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এ সক্রিয় রয়েছে। ফলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment