এভিয়েশন নিউজ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বিশ্বের ৫৯ হাজার ছাড়িয়েছে। ক’রোনা মহামারীর মধ্যেও আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দেশ-বিদেশের এভিয়েশন খাত। প্রতিদিনই বাড়ছে ফ্লাইট। বাংলাদেশের অভ্যন্তীণ ও আন্তর্জাতিক রুটও চাঙ্গা হচ্ছে। ১৬ জুন থেকে চালু হওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীও মিলছে আশাতীত। প্রথম দিকে শুধু কাতার এয়ার ঢাকা থেকে দূর গন্তব্যে যাত্রী টানায় টিকিট নিয়ে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের (বেবিচক) হস্তক্ষেপে এমিরেটস অনুমতি পাওয়ার পর ভেঙে যায় টিকিটের মনোপলি।
এরই মধ্যে আজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে এমিরেটস ও বিমানের বহুল প্রতীক্ষিত ফ্লাইট। ঢাকা থেকে বহির্বিশ্বের ফ্লাইট অপারেট করার জন্য আরও দুটি এয়ারলাইনস আবেদন করে অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে ঢাকায় ফ্লাইট অপারেট করতে যাচ্ছে এমিরেটস ও টার্কিশ এয়ারলাইনস। যাত্রীর চাহিদা বিবেচনায় ফ্লাইট বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে বিমান কর্র্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পৃথিবীর অন্যান্য দেশ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই রুটেই ফ্লাইট চালু করেছে। করোনা শুরুর পর গত শুক্রবার পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা ৫৯ হাজার ছাড়িয়েছে। এই সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
গত তিন মাস বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইনসগুলো সাময়িক বন্ধ রাখায় চরম বিপর্যয় নেমে আসে এভিয়েশন খাতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে করোনার মাঝে নতুন স্বাস্থ্যবিধি ও দূরত্ব মেনে চালু করা হয় ফ্লাইট। এমিরেটস ব্রিটিশ লুফথানসার মতো দুনিয়ার শীর্ষ এয়ারলাইনস কর্মী ছাঁটাই ও বেতন কর্তন করেই নবোদ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নেয়।
সেভাবেই প্রতিদিনই আপডেট পাাওয়া যাচ্ছে দেশ-বিদেশের এভিয়েশনে। দুনিয়ার সেরা এভিয়েশন বোদ্ধাদের দৃষ্টিতে, আগামী জুলাই থেকে খুলে যাবে শীর্ষ সব এয়ারলাইনস। সেটা বেশ তির্যক রেখায় ওপরের দিকে ছুটবে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পেরিয়ে অক্টোবর থেকে দেখা যাবে নতুন রূপে।
এ বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশেও চলতি মাসে প্রথমে অভ্যন্তরীণ, পরে ১৬ জুন থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। রবিবার লন্ডন দিয়ে বিমানের যাত্রা শুরু হলেও পর্যাপ্ত যাত্রী পেলে ধীরে ধীরে লন্ডনের দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এভাবে সীমিত পরিসরে হলেও বহির্বিশ্বের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে এভিয়েশনকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে।
বিমান ও কাতারের পর তুর্কি এয়ারলাইনস এবং শারজাহর এয়ার অ্যারাবিয়াকে জুলাই থেকে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু ট্রানজিট যাত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকদের বহন করার শর্তে আমরা আমিরাত এয়ারলাইনসকে ২১ জুন থেকে দুবাই-ঢাকা-দুবাই রুটে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দিয়েছি।
অনুরোধ অনুযায়ী, বেবিচক ১ জুলাই থেকে ইস্তাম্বুল-ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে এবং এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহভিত্তিক এয়ার অ্যারাবিয়াকে ইস্তাম্বুল-ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
ঢাকায়ও একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন এমিরেটস কাতার ও অন্যান্য এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, আমিরাত এয়ারলাইনস প্রতি শনিবার, সোম ও বৃহস্পতিবার দুবাই-ঢাকা-দুবাই রুটে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ইতিমধ্যে কাতার এয়ারলাইনস প্রতি মঙ্গল, বুধ ও শুক্রবার দোহা-ঢাকা-দোহা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিমানও ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আশীষ রায় চৌধুরী বলেন, ‘এখন আর পিছু হটার সুযোগ নেই। করোনার মধ্যে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আগের ছন্দে ফিরতে হবে। ইতিমধ্যে এমিরেটস, টার্কিশ, কাতার, সিঙ্গাপুর, প্যান আম, ডেল্টা ইউনাইটেড, ব্রিটিশসহ বিশ্বের তাবৎ এয়ারলাইনস তাদের নতুন ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করেছে। বিস্তারিত প্যাকেজও পাওয়া যাচ্ছে।
মহামারীর মধ্যেও এয়ারলাইনস কখনো সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল না। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, এমিরেটস এমনকি প্রতিবেশী ভারতে এয়ার ইন্ডিয়া লোক ছাঁটাই ও বেতন কাটছাঁট করেও অপারেশন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এদিকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের করোনাকালীন প্রথম আন্তর্জাতিক শিডিউল ফ্লাইট শুরু হচ্ছে আজ রবিবার। আপাতত বিমান ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ রুটের ফ্লাইট পরিচালনার সব প্রস্তুতি নিয়েছে।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিমানবন্দর টার্মিনালে ঢোকার আগে যাত্রীদের জন্য বোর্ডিং গেটে তিনটি জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে ভিআইপি টার্মিনালসহ বিমানবন্দরের অন্যান্য ফটকেও চারটি জীবাণুনাশক টানেল বসানো হবে। ফিরতি যাত্রীরা কভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখাতে ব্যর্থ হলে অথবা বিমানবন্দরে মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হলে তাদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে।’
বেবিচকের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রুটও জমে উঠেছে। উড়োজাহাজ সংকটে বিমান অভ্যন্তীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা না করলেও বেসরকারি ইউএস-বাংলা এবং নভোএয়ার প্রতিদিনই যাত্রী বহন করছে। ধীরে ধীরে আগের মতো যাত্রী পাচ্ছে তারা। ইউএস-বাংলা প্রতিদিন ৩২ এবং নভোএয়ার ২২টি করে ফ্লাইট অপারেট করছে।
ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, মহামারীতে যাত্রীদের সময় চাহিদার ভিন্নতার কারণে অভ্যন্তরীণ রুটে পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচল করছে। বর্তমানে ব্র্যান্ড নিউ এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ৫টি, যশোরে ৫টি, সৈয়দপুরে ৪টি এবং সিলেট রুটে ২টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রতিটি রুটেই সব ধরনের ট্যাক্স ও সারচার্জসহ ওয়ানওয়ের জন্য সর্বনিম্ন নির্ধারণ করা হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। খুব শিগগির ঢাকা থেকে রাজশাহী, বরিশাল ও কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক রুট ঢাকা থেকে গুয়াংজু সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনার প্রত্যাশা করছেন তিনি।