ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে সোমবার বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে দিল্লি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামায় বিঘ্ন ঘটে এবং মোট ১৫টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এতে দিল্লিগামী ও দিল্লি থেকে ছেড়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন ও বিলম্ব দেখা দিয়েছে।
দিল্লি বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঘুরিয়ে দেওয়া ১৫টি ফ্লাইটের মধ্যে ১২টি জয়পুর বিমানবন্দরে, দুটি চণ্ডীগড় বিমানবন্দরে এবং একটি লখনউ বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে। এসব ফ্লাইটের মধ্যে তিনটি ছিল আন্তর্জাতিক। খারাপ আবহাওয়ার কারণে নিরাপদে উড়োজাহাজ পরিচালনা নিশ্চিত করতেই ফ্লাইটগুলো বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়।
দিল্লিতে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমকানো এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির জন্য রেড অ্যালার্ট এবং মাঝারি বৃষ্টির জন্য ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়ার অবনতির কারণে যাত্রীদের সতর্ক করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দিল্লিগামী এবং দিল্লি থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটের কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে। একইভাবে ইন্ডিগো, স্পাইসজেট ও আকাসা এয়ারও জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাদের কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে অথবা সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে নিজ নিজ ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বিলম্বের জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি, পূর্ব দিল্লি, শাহদারা, মধ্য দিল্লি, উত্তর-পূর্ব দিল্লি, দক্ষিণ দিল্লি, নয়াদিল্লি, দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লি, পশ্চিম দিল্লি, উত্তর-পশ্চিম দিল্লি ও উত্তর দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
দিল্লির পাশাপাশি নয়ডা, গাজিয়াবাদ ও গুরুগ্রামেও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে যায়। এতে অফিসগামী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিনও দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বায়ুর মানে সাময়িক উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI ৮৩ থেকে ১২৭-এর মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে বৃষ্টির প্রভাবে দিল্লির দূষণের মাত্রাও কিছুটা কমেছে।