সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক দুই এয়ারলাইন ফ্লাইদুবাই ও এয়ার আরাবিয়া আবারও ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার করে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর সঙ্গে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ থাকার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।
রিয়েল-টাইম ফ্লাইট তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট ২০২৬ থেকে ফ্লাইদুবাই দুবাই থেকে বাকু রুটে ইরানের আকাশসীমা দিয়ে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। এ রুটে প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি। ফ্লাইটগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ উড়োজাহাজ।
একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরেকটি এয়ারলাইন এয়ার আরাবিয়াও শারজাহ বিমানবন্দর থেকে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর উদ্দেশে ফ্লাইট পরিচালনায় ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার শুরু করেছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খুব কমসংখ্যক এয়ারলাইন ইরানের আকাশসীমা দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এর আগে এমিরেটসও ইরানের আকাশসীমা দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও পরে বিমান সংস্থাটি তা অস্বীকার করে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন এখনো ইরানের তেহরান ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন এড়িয়ে চলছে। এর ফলে তাদের উড়োজাহাজকে বিকল্প ও দীর্ঘতর রুটে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ফ্লাইটের সময় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি খরচও বাড়ছে।
তবে ফ্লাইদুবাই ও এয়ার আরাবিয়ার ইরানের আকাশসীমা পুনরায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সতর্কতার সঙ্গে ভিন্নমত তৈরি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (EASA) এখনো ইরানের আকাশসীমা নিয়ে সতর্কতা বহাল রেখেছে। সংস্থাটি বেসামরিক উড়োজাহাজ পরিচালনাকারীদের ইরানের আকাশসীমা দিয়ে যেকোনো উচ্চতায় ফ্লাইট পরিচালনা না করার বিষয়ে জোরালো পরামর্শ দিয়ে আসছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ওই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বেসামরিক উড়োজাহাজকে ভুলভাবে শনাক্ত করার সম্ভাবনা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজের মধ্যে ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার করলে দুবাই ও বাকুর মধ্যে সরাসরি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়। এতে উড়োজাহাজের সময়সূচি ঠিক রাখা, ফ্লাইট সময় কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
ফলে ফ্লাইদুবাই ও এয়ার আরাবিয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নিরাপত্তা ও পরিচালন দক্ষতার মধ্যে চলমান ভারসাম্যের প্রশ্নটি আবার সামনে এনেছে। একই অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের বিমান নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের ঝুঁকি মূল্যায়নে পার্থক্য থাকায় যাত্রীরাও এয়ারলাইনভেদে ভিন্ন রুট ও ফ্লাইট পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।