বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাবের ঠিক আগে বাহরাইন থেকে ছুটিতে বাংলাদেশে আসেন তিন হাজারের বেশি প্রবাসী। এরপর ফ্লাইট বন্ধ হয়ে পড়ায় তারা আর ফিরে যেতে পারেননি।
এ অবস্থায় অনেকের চাকরি চলে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবার কারো কারো ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে
কিংবা শেষ হওয়ার পথে। ফলে এ নিয়ে বিপদে পড়েছেন তারা।
এদিকে গত ২৪ জুন বাহরাইন থেকে বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে ৪১৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশে ফেরেন।
পরদিন ২৫ জুন এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুজন বাংলাদেশি বাহরাইনে ফিরে যান।
এতে আশার আলো দেখছেন দেশে আটকে পড়া প্রবাসীরা।
আর এ সুযোগে টিকেটের দাম ৫ থেকে ৭ গুণ বাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু ট্রাভেল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম বলেন,
এখন থেকে স্বাভাবিক ফ্লাইটে প্রবাসীরা যাতায়াত করতে পারবেন। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে বাহরাইনের সংশ্লিষ্ট
মন্ত্রণালয় থেকে কনফারমেশন লেটার পাওয়া গেছে। তবে যারা যেতে ইচ্ছুক, তাদের অবশ্যই ভিসার মেয়াদ থাকতে হবে। আর যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ, তাদের ব্যাপারে দূতাবাস সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং কাজ করে যাচ্ছে।
জানা গেছে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে বাহরাইন যাওয়ার টিকেটের দাম
৩০ থেকে ৩৬ হাজার টাকা। কিন্তু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কিছু অসাধু ট্রাভেল ব্যবসায়ী প্রতি টিকিটের দাম
দেড় থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ফলে অনেকে কোনো উপায় না পেয়ে জমিজমা বিক্রি করে টিকিট কিনছেন।
একজন প্রবাসী জানান, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-০৫৮৫ ফ্লাইটের আগামী ৬ জুলাইয়ে একটি টিকেট কিনেছেন।
এর জন্য তাকে গুনতে হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টাকা। আবার অনেককে জানানো হয়, আগস্টের আগে বাহরাইনে
ফেরার কোনো টিকেট খালি নেই।
যদি একান্তই তাকে যেতে হয় তাহলে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় করলে টিকেট পাওয়া যাবে।