জাপান তাদের এফ-১৫জে যুদ্ধবিমান বহরের সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের আধুনিকায়ন কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। এফ-১৫জে যুদ্ধবিমানগুলোকে এফ-১৫জেএসআই বা ‘জাপান সুপার ইন্টারসেপ্টর’ মানে উন্নীত করার এই কর্মসূচির আওতায় সম্প্রতি চারটি নতুন চুক্তি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব চুক্তির মাধ্যমে আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ফ্লাইট সাপোর্ট সরঞ্জাম এবং লজিস্টিক সহায়তা সংগ্রহ করা হবে।
চুক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফরেন মিলিটারি সেলস (এফএমএস) কর্মসূচির আওতায় সম্পন্ন হয়েছে। চারটি চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৪২.৬৫ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ২৬৭.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
জাপানের এফ-১৫জেএসআই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো পুরোনো এফ-১৫জে যুদ্ধবিমানগুলোর কাঠামোগত আয়ুষ্কাল কাজে লাগিয়ে এগুলোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী যুদ্ধবিমানে রূপান্তর করা। আধুনিকায়নের পর এসব যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত এফ-১৫ইএক্স ঈগল-২-এর কাছাকাছি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
এই আধুনিকায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাডার পরিবর্তন। পুরোনো যান্ত্রিকভাবে স্ক্যান করা এএন/এপিজি-৬৩(ভি)১ রাডারের পরিবর্তে এএন/এপিজি-৮২(ভি)১ অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে বা এএইএসএ রাডার স্থাপন করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ দূরত্বে লক্ষ্য শনাক্তকরণ, ট্র্যাকিং এবং একাধিক লক্ষ্য মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে।
রাডারের পাশাপাশি যুদ্ধবিমানগুলোর ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, রাডার সতর্কীকরণ সেন্সর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও আধুনিকায়ন করা হবে। এসব প্রযুক্তি বিমানটির পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা ও বৈদ্যুতিন যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আধুনিকায়নের ফলে এফ-১৫জেএসআইয়ের অস্ত্র বহনের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমানে পুরোনো এফ-১৫জে সর্বোচ্চ আটটি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। উন্নত সংস্করণে এর চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। এএএম-৪ বা টাইপ-৯৯ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এছাড়া জাপান এফ-১৫জেএসআই যুদ্ধবিমানে দূরপাল্লার আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার বিষয়ও বিবেচনা করছে। এর মধ্যে এজিএম-১৫৮ জেএএসএসএম অন্যতম।
জাপান মোট প্রায় ৯৮টি এফ-১৫জে যুদ্ধবিমানকে এফ-১৫জেএসআই মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। এর আগে ৬৮টি বিমানের আধুনিকায়নে অর্থায়ন করা হয়েছিল। পাশাপাশি দেশটির হালনাগাদ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় আরও ৫৪টি এফ-১৫জেএসআই বিমানের জন্য অর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই আধুনিকায়নের মাধ্যমে জাপান পুরোনো যুদ্ধবিমান বহরের কার্যকর আয়ু বাড়ানোর পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ও দূরপাল্লার হামলা মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।