বিমানের ভেতর বোমার রসিকতা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তুরস্কের এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি তার বড় প্রমাণ।
আপনার দেওয়া খবরটির বাংলা অনুবাদ ও একটি সুন্দর শিরোনাম নিচে দেওয়া হলো:
বিমানে বসে বোমার নাটক বা রসিকতা করার আগে দুবার ভাবুন, বিশেষ করে তুরস্কে।
সম্প্রতি একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে বোমার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং ফ্লাইট বিলম্বিত করার অপরাধে এক যাত্রীকে চার বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। ইস্তাম্বুলের সাবিহা গোকচেন বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সানলিউরফাগামী একটি ‘এজেট’ (AJet) ফ্লাইটে এই তুলকালাম ঘটে।
দুই বোনের কথোপকথনের এক পর্যায়ে একজন কেবিন ক্রুকে উদ্দেশ্য করে তার বোনের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “এ হলো একটা জ্যান্ত বোমা, একে বিমানে উঠতে দেবেন না।”
এই একটি মন্তব্য মুহূর্তেই এভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোটোকল সচল করে দেয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সব যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয় এবং বিশেষজ্ঞ দল তল্লাশি চালায়।
দীর্ঘ তল্লাশির পর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে সেখানে কোনো বিস্ফোরক ছিল না। এই পুরো প্রক্রিয়ার কারণে ফ্লাইটটি প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বিত হয় এবং সব যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
তদন্তের সময় দুই বোন দাবি করেন, তারা কেবল মজা করার জন্য এমনটা বলেছিলেন।
পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর তাদের এক বছরের জন্য ওই এয়ারলাইন্সে নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি।
তুরস্কের দণ্ডবিধির ২২৩ ধারা অনুযায়ী (পরিবহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো) তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
আদালত রায়ে জানায়, ওই যাত্রীর মন্তব্য এভিয়েশন নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৪ বছর ২ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতে এই রায় বহাল থাকলে তাকে জেল খাটতে হবে।
এছাড়া, ফ্লাইট বিলম্বের কারণে আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চেয়ে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
তুরস্কের আইন অনুযায়ী, বিমানে এই ধরনের মন্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।
সামান্য রসিকতাও যে বড় ধরনের ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি সতর্কবার্তা।