এক বছর পরও থামেনি কান্না: এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি

বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের বিভীষিকা এখনও তাড়া করে ফিরছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের

ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের বিভীষিকা এখনও তাড়া করে ফিরছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। গত বছরের ১২ জুন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি এয়ার ইন্ডিয়া উড়োজাহাজ বিজে মেডিক্যাল কলেজের আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হলে প্রাণ হারান ২৬০ জন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিমানের ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রু এবং মাটিতে থাকা আরও অনেকে।

দুর্ঘটনায় স্ত্রী সরলাবেন ও দুই বছর বয়সী নাতনি আধ্যাকে হারিয়েছেন প্রহ্লোদ ঠাকুর। এক বছর পরও প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী ও নাতনির ছবির দিকে তাকিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তিনি। তার ভাষায়, “প্রতিটি বিমানের শব্দ শুনলেই সেই দিনের কথা মনে পড়ে। আকাশের দিকে আর তাকাই না।”

দুর্ঘটনার সময় সরলাবেন মেডিক্যাল কলেজের মেসে কাজ করছিলেন। নাতনি আধ্যাকে নিয়ে ভবনের উপরের তলায় যাওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরই বিমানটি ভবনটির ওপর আছড়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রে খোঁজ চালানোর পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

দুর্ঘটনার এক বছর পরও বিধ্বস্ত ভবনের অনেক অংশ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ভাঙা ছাদ, পোড়া দেয়াল, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মালপত্র এবং আগুনের কালো দাগ এখনও সেই ভয়াল স্মৃতির সাক্ষী হয়ে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ভবনটি ভেঙে নতুন হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা করলেও বর্তমানে সেটি দুর্ঘটনার স্মারক হিসেবেই দাঁড়িয়ে আছে।

মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরাও এখনও মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। দুর্ঘটনার সময় মেসে উপস্থিত থাকা আরমান খান পাঠান ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করেন। তার বন্ধু আদিত্য দয়াল বলেন, দুর্ঘটনার পর বহুদিন পোড়া ধোঁয়ার গন্ধ যেন তার নাকে লেগে ছিল। আজও সেই স্মৃতি তাকে তাড়া করে ফেরে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও সেই দিনের দৃশ্য ভুলতে পারেননি। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া অনেকেই জানান, চারদিকে আগুন, ধোঁয়া এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

এদিকে দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিজে মেডিক্যাল কলেজে প্রার্থনা সভা, রক্তদান কর্মসূচি এবং বৃক্ষরোপণের আয়োজন করা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, জীবন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলেও সেই দিনের স্মৃতি কখনও মুছে যাবে না। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর জন্যও সময় ক্ষত কিছুটা কমালেও শোক আজও একই রকম গভীর রয়ে গেছে।

 

Comments (0)
Add Comment