জ্বালানি ব্যয় বেড়েও আশাবাদী টার্কিশ এয়ারলাইন্স

তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজারে দরপতনের চাপের মধ্যেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী রয়েছে তুরস্কের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইন্স

বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজারে দরপতনের চাপের মধ্যেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী রয়েছে তুরস্কের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইন্স। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়তি ব্যয় সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান শিল্পে। টার্কিশ এয়ারলাইন্স আগে ধারণা করেছিল, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলার থাকবে। তবে বর্তমানে সেই মূল্য ৯০ থেকে ৯৫ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে সংস্থাটির বার্ষিক জেট ফুয়েল ব্যয় পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বেড়ে যেতে পারে।

বর্ধিত ব্যয়ের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের শেয়ারের মূল্য সর্বোচ্চ ৩৫৩ লিরায় পৌঁছালেও বর্তমানে তা প্রায় ১২ শতাংশ কমে ২৯২ লিরায় নেমে এসেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাময়িক চাপ মাত্র। তুরস্কের ভৌগোলিক অবস্থান টার্কিশ এয়ারলাইন্সের সবচেয়ে বড় শক্তি। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থান করায় ইস্তাম্বুল আন্তর্জাতিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিশেষ করে কার্গো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় সুবিধা হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের কার্গো আয় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৬৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

প্রথম প্রান্তিকে সংস্থাটি ২ কোটি ১০ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রাজস্ব ২১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া এক বছর আগে ৪৪ মিলিয়ন ডলার লোকসান থাকলেও এবার প্রথম প্রান্তিকে ২২৭ মিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের বহরে ৫৩০টি উড়োজাহাজ রয়েছে। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এ সংখ্যা প্রায় ৬১০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাময়িক বাজার অস্থিরতা ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কৌশলকে বাধাগ্রস্ত করবে না।

বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, টার্কিশ এয়ারলাইন্সের বার্ষিক রাজস্ব ২০২৫ সালের ২৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৭ সালে ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

Comments (0)
Add Comment