উড্ডয়নের মুহূর্তে দিল্লিগামী বিমানে বোমা আতঙ্ক, নামানো হলো ১৮০ যাত্রী

ইন্ডিগো উড়োজাহাজে বোমা থাকার হুমকির পর ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা চালানো

ভারতের লক্ষ্ণৌ বিমানবন্দরে দিল্লিগামী একটি ইন্ডিগো উড়োজাহাজে বোমা থাকার হুমকির পর ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা চালানো হয়েছে। উড্ডয়নের ঠিক আগে বিমানের ভেতর থেকে একটি সন্দেহজনক চিরকুট উদ্ধার হওয়ায় প্রায় ১৮০ যাত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে বিমান থেকে নামিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ তল্লাশি শেষে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে বোমা থাকার দাবিটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ইন্ডিগোর ৬ই২১১১ ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে লক্ষ্ণৌ থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা করার কথা ছিল। যাত্রীরা বোর্ডিং সম্পন্ন করে আসন গ্রহণের পর উড্ডয়নের প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই সময় বিমানের শৌচাগারে রাখা একটি টিস্যু পেপারে হাতে লেখা বার্তা পাওয়া যায়। ওই বার্তায় বিমানে বোমা থাকার দাবি করা হয়েছিল।

চিরকুটটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেবিন ক্রুরা বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে অবহিত করেন। এরপর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে ফ্লাইটটির যাত্রা স্থগিত করা হয়। বিমানটিকে নির্ধারিত স্থান থেকে সরিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা জোনে নেওয়া হয় এবং যাত্রীদের দ্রুত নামিয়ে আনা হয়।

পরবর্তীতে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিমানবন্দর কর্মকর্তারা যৌথভাবে বিমানটির প্রতিটি অংশে তল্লাশি চালান। যাত্রীদের লাগেজ, কার্গো হোল্ড, কেবিন এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানও পরীক্ষা করা হয়। কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। ফলে হুমকিটিকে ভুয়া বলে ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার কারণে ফ্লাইটটি কয়েক ঘণ্টা বিলম্বিত হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি। বর্তমানে কে বা কারা ওই চিরকুট লিখে বিমানের ভেতরে রেখে গেছে তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর মাত্র একদিন আগে কেরালার কান্নুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইটকে ঘিরে একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দেয়। মুম্বাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে পাওয়া একটি নোটকে প্রথমে বোমা হুমকি বলে মনে করা হলেও পরে পুলিশ তদন্তে জানায়, সেটি আসলে কোনো হুমকি ছিল না; কেবিন ক্রুরা ভুলভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিমান চলাচলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সন্দেহজনক তথ্য বা বার্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

Comments (0)
Add Comment