হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো পরিবহন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না এবং এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এদিন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সরাসরি কার্গো টার্মিনালে যান এবং পণ্য খালাস প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের পণ্য দ্রুত ও নির্ভুলভাবে খালাস নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীরা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “কার্গো পরিবহন ব্যবস্থাকে আমরা একটি আধুনিক ও জবাবদিহিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।”
কার্গো টার্মিনাল পরিদর্শনের পর মন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সে যান।
সেখানে তিনি বর্তমানে গ্রাউন্ডেড থাকা বিজি-২০২ ফ্লাইটের (বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার) কারিগরি ত্রুটির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় হাইড্রোলিক সিস্টেমের আইসোলেটরে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় উড়োজাহাজটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে ছিল।
মন্ত্রী নিজে উড়োজাহাজটির ককপিট ও কেবিন পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখেন।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাইড্রোলিক সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ শেষ করে বিমানটিকে পুনরায় উড্ডয়নযোগ্য করার জন্য তিনি প্রকৌশলীদের বিশেষ তাগিদ দেন।
মন্ত্রীর এই পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ বেবিচক ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বিমানবন্দরের সেবার মান বাড়াতে এবং কার্গো জট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।