ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্ল্যাকলিস্টে ১৫৪ বিমান সংস্থা

সর্বশেষ এয়ার সেফটি লিস্টে নিষিদ্ধ বিমান সংস্থার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৪

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সর্বশেষ এয়ার সেফটি লিস্টে নিষিদ্ধ বিমান সংস্থার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৪টিতে। ৯ জুন প্রকাশিত তালিকার ৪৮তম হালনাগাদে আলজেরিয়ার বিমান সংস্থা এয়ার এক্সপ্রেস আলজেরিয়াকে যুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণে গুরুতর ঘাটতি এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সংস্থাটিকে ইউরোপীয় আকাশসীমায় পরিচালনার অনুমতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৬টি দেশের ১২৬টি বিমান সংস্থা তাদের নিজ নিজ দেশের দুর্বল নিরাপত্তা তদারকির কারণে ইইউতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, কঙ্গো, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, জিবুতি, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, নেপাল, সাও তোমে ও প্রিন্সিপে, সিয়েরা লিওন, সুদান, সুরিনাম ও তানজানিয়া। অ্যাঙ্গোলার বেশিরভাগ বিমান সংস্থাও নিষিদ্ধ, তবে কয়েকটি ব্যতিক্রম রয়েছে।

এছাড়া রাশিয়ায় নিবন্ধিত ২২টি বিমান সংস্থা তালিকাভুক্ত রয়েছে। পৃথকভাবে নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে নিষিদ্ধ থাকা অন্যান্য সংস্থার মধ্যে রয়েছে এয়ার জিম্বাবুয়ে, অ্যাভিওর এয়ারলাইন্স, ইরান আসেমান এয়ারলাইন্স, ফ্লাই বাগদাদ এবং ইরাকি এয়ারওয়েজ। অন্যদিকে ইরান এয়ার ও উত্তর কোরিয়ার এয়ার কোরিওর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও তাদের নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজের মাধ্যমে সীমিত পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে সর্বশেষ হালনাগাদে ইতিবাচক একটি পরিবর্তনও এসেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে বিমান নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর স্বীকৃতি হিসেবে কিরগিজস্তানে নিবন্ধিত সব বিমান সংস্থাকে নিষিদ্ধ তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন এটিকে দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

২০০৬ সালে চালু হওয়া ইইউ এয়ার সেফটি লিস্ট বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। ইউরোপীয় কমিশন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) যৌথভাবে এই তালিকা পরিচালনা করে। কোনো বিমান সংস্থা বা দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা মান পূরণে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তালিকা শুধু যাত্রীদের নিরাপদ বিমান নির্বাচনেই সহায়তা করে না, বরং বিভিন্ন দেশকে তাদের বিমান নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থার উন্নয়নে উৎসাহিত করে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইউরোপীয় যাত্রী কোনো বিমান সংস্থার নাম কালো তালিকায় দেখলে সেই সংস্থার টিকিট কেনা থেকে বিরত থাকেন।

Comments (0)
Add Comment