কানাডায় এক চাঞ্চল্যকর বিমান প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রায় ১৭ বছর ধরে উড়োজাহাজ চালানোর অভিযোগে এক সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি এয়ার কানাডার সাবেক পাইলট জিওফ্রি ওয়াল বলে জানা গেছে। তিনি এই সময়ে হাজারো যাত্রী বহন করেছেন এবং শতাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কানাডার পিল রিজিওনাল পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের একটি নিয়মিত যাচাই প্রক্রিয়ার সময় জিওফ্রি ওয়ালের লাইসেন্স সংক্রান্ত নথিতে অসংগতি ধরা পড়ে। এরপর বিষয়টি এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায় এবং দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইটে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, অথচ তার কাছে প্রয়োজনীয় এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স (এটিপিএল-এ) ছিল না।
তদন্তকারীরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি কখনোই ক্যাপ্টেন পর্যায়ের বাধ্যতামূলক পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করেননি, তবুও তিনি বোয়িং ৭৬৭, ৭৭৭ এবং ৭৮৭ উড়োজাহাজ পরিচালনা করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়ে তিনি হাজারেরও বেশি যাত্রী পরিবহন করেছেন এবং প্রায় ৩ কোটি কানাডিয়ান ডলার আয় করেছেন।
পুলিশের ডেপুটি চিফ মিলিনোভিচ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো শোনালেও বাস্তবে এটি একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বিমান চলাচলের মতো সংবেদনশীল খাতে প্রতিটি ধাপে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও যাচাই প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন ঘটনা ঘটল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, এটি এমন এক পরিস্থিতির মতো যেখানে কেউ সাধারণ চিকিৎসার লাইসেন্স নিয়ে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। পেশাগত যোগ্যতার প্রতিটি স্তরে নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকা বাধ্যতামূলক, যা যাত্রী নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্তে আরও জানা গেছে, জিওফ্রি ওয়াল তার নিয়োগকর্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হন।
এই ঘটনার পর কানাডার বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থার যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অভ্যন্তরীণ যাচাই ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে।