মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতায় বৈশ্বিক বিমান খাতে চাপ বৃদ্ধি

২০২৬ সালে বৈশ্বিক বিমান শিল্পের মুনাফা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা, আকাশপথে বিধিনিষেধ এবং জেট জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বিমান শিল্পের মুনাফা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ)।

সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বের এয়ারলাইন্সগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিট মুনাফা অর্জন করবে। অথচ ২০২৫ সালে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আইএটিএর মতে, ২০২৬ সালে এয়ারলাইন্সগুলোর গড় নিট মুনাফার হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ২ শতাংশে নেমে আসবে। একই সঙ্গে প্রতি যাত্রী থেকে অর্জিত মুনাফাও কমে দাঁড়াবে মাত্র ৪ দশমিক ৫০ ডলারে।

তবে মুনাফা কমলেও শিল্পটির মোট আয় বাড়তে পারে। সংস্থাটি ধারণা করছে, বৈশ্বিক বিমান শিল্পের মোট রাজস্ব ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি, বিমান ভাড়ার ঊর্ধ্বগতি এবং অতিরিক্ত সেবা থেকে আয় বৃদ্ধির ফলে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী বিমানযাত্রীর সংখ্যা ৫১০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি বিমানগুলোর আসন পূরণের হার বা লোড ফ্যাক্টর রেকর্ড ৮৪ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে শিল্পটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে জেট জ্বালানির মূল্য। আইএটিএ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে জেট ফুয়েলের দাম গড়ে প্রতি ব্যারেল ১৫২ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। এর ফলে বৈশ্বিক এয়ারলাইন্সগুলোর মোট জ্বালানি ব্যয় বেড়ে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, যেখানে ২০২৫ সালে এ ব্যয় ছিল ২৫২ বিলিয়ন ডলার।

মধ্যপ্রাচ্যকে একমাত্র অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে এয়ারলাইন্সগুলো সম্মিলিতভাবে লোকসানের মুখে পড়বে। আকাশসীমা সীমাবদ্ধতা, ফ্লাইট বাতিল এবং ট্রানজিট যাত্রী কমে যাওয়ার কারণে এ অঞ্চলের বিমান সংস্থাগুলোর প্রায় ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার নিট লোকসান হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

তবে সরবরাহ শৃঙ্খলের জটিলতা, উড়োজাহাজের ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক বিমান শিল্পের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে আইএটিএ।

Comments (0)
Add Comment