বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, আহত ১০

দুবাই প্রবাসী এক ব্যক্তিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় দুবাই প্রবাসী এক ব্যক্তিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার কুসমপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত মমতাজ বেগম (৪০) দুবাই প্রবাসী লিটন সরকারের স্ত্রী। দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে আহতদের সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আড়াই মাসের ছুটি শেষে দুবাই ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিটন সরকারকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা একটি প্রাইভেট কারে করে ঢাকার দিকে রওনা হন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিল বিদায়ের আবেগঘন মুহূর্ত। কিন্তু পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

কুসমপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসকে পাশ দিতে গিয়ে প্রাইভেট কারের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণ হারানো গাড়িটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যাত্রীরা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলাউদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সংকীর্ণ রাস্তা, দ্রুতগতির যানবাহন এবং অসতর্ক ড্রাইভিংয়ের কারণে ঝুঁকি বেড়ে যায়। তারা সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এই দুর্ঘটনায় একটি পরিবার মুহূর্তের মধ্যে শোকের সাগরে ভেসে গেছে। প্রিয়জনকে বিদেশে কর্মস্থলে পৌঁছে দিতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি এলাকাবাসীকেও গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।

Comments (0)
Add Comment