ইথিওপিয়ায় বাস খাদে পড়ে নিহত ৩১

ইথিওপিয়ার একটি দুর্গম পাহাড়ি সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন।

ইথিওপিয়ার একটি দুর্গম পাহাড়ি সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। রাজধানী আদ্দিস আবাবার দিকে যাচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে গেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, বাসটি ডেসি অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং এতে ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি যাত্রী ছিল। দুর্ঘটনার সময় বাসটি একটি বাঁকপূর্ণ ও খাড়া পাহাড়ি সড়ক দিয়ে অতিক্রম করছিল। এক পর্যায়ে চালক যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে নিচের গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু যাত্রী প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে দুর্গম এলাকা, খারাপ সড়ক অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত জরুরি সেবার অভাবে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। অনেককে সাধারণ যানবাহন ও স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসায় বিলম্ব হওয়ায় কয়েকজন গুরুতর আহত ব্যক্তি পরে মারা যান। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

ইথিওপিয়ার পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই, দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা এবং চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনাস্থলের মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। খারাপ রাস্তার অবস্থা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এলাকাবাসী বহুবার কর্তৃপক্ষকে সড়ক উন্নয়নের দাবি জানালেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

উল্লেখ্য, ইথিওপিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিদামা এলাকায় একটি বাস নদীতে পড়ে অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পরও সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় নতুন করে এই দুর্ঘটনা দেশটির পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

Comments (0)
Add Comment