শাহজালাল বিমানবন্দরে পড়ে থাকা পণ্য বিক্রিতে বিশেষ ই-নিলাম

দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিভিন্ন পণ্য বিক্রির জন্য বিশেষ ই-নিলামের আয়োজন করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট ইউনিট এবং এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিটে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিভিন্ন পণ্য বিক্রির জন্য বিশেষ ই-নিলামের আয়োজন করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। বিমানবন্দরের কর্মউপযোগিতা বৃদ্ধি, গুদামজাত পণ্যের চাপ কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা কাস্টমস হাউসের অধীনে থাকা এয়ারফ্রেইট ও এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিটে বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা পণ্যসমূহ ‘যেখানে যে অবস্থায় আছে’ ভিত্তিতে বিক্রির জন্য ই-নিলামের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ নির্দেশনার আলোকে এবার নিলাম প্রক্রিয়ায় কিছু নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ না করে প্রথম নিলামে কোনো লটের জন্য যে সর্বোচ্চ দর পাওয়া যাবে, সেই দরেই সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি করা হবে। এর ফলে নিলাম প্রক্রিয়া আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং দ্রুত পণ্য নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আগামী ১৯ জুন সকাল ৯টা থেকে ২ জুলাই দুপুর ১টা পর্যন্ত নির্ধারিত ই-নিলাম ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে বা বিডার লগইনের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ঢাকা কাস্টমস হাউসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেও ই-নিলাম পোর্টালে প্রবেশ করা যাবে।

সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই নিলাম পরিচালিত হবে। তবে অংশগ্রহণকারী দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে তারা পণ্যের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে পারেন। অনলাইনে বিড করার পাশাপাশি জামানতের পে-অর্ডার এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে জমা দিতে হবে।

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সর্বোচ্চ দরদাতাদের ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪’-এর প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করে পণ্য খালাস করতে হবে। এতে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।

এনবিআর জানিয়েছে, ই-অকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দরদাতাদের তথ্য আগামী ২ জুলাই দুপুর ৩টায় ঢাকা কাস্টমস হাউসের সম্মেলন কক্ষে প্রকাশ করা হবে। নিলামসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে আগ্রহীদের ই-অকশন পোর্টাল নিয়মিত পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বিমানবন্দরের গুদামে জমে থাকা পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তি হবে, সংরক্ষণ ব্যয় কমবে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ ও আধুনিক হবে।

Comments (0)
Add Comment