ভারতের গুয়াহাটি বিমানবন্দরে আটক বাংলাদেশি তরুণী, উদ্ধার জাল আধার কার্ড

ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগে এক বাংলাদেশি তরুণীকে আটক করেছে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগে এক বাংলাদেশি তরুণীকে আটক করেছে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মী ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতায় তাকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গের একটি ঠিকানা ব্যবহার করে তৈরি করা জাল আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই তরুণী বেঙ্গালুরু থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদোলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমান থেকে নেমে লাগেজ সংগ্রহের সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী স্বীকার করেন যে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। এরপর তার কাছে থাকা বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করে কর্মকর্তারা একটি আধার কার্ড উদ্ধার করেন, যা পরে জাল বলে সন্দেহ করা হয়। ওই আধার কার্ডে তার নাম ‘পূজা দাস’ উল্লেখ করা হয়েছিল এবং সেখানে পশ্চিমবঙ্গের একটি ঠিকানা ব্যবহার করা হয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তরুণীকে পরবর্তী তদন্তের জন্য আজারা থানার সীমান্ত শাখার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সীমান্ত শাখা ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই তরুণী আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সহায়তায় ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, সীমান্ত অতিক্রমের আগেই পাচারকারী চক্রের সদস্যরা তাকে ভুয়া ভারতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করে। এসব নথি ব্যবহার করে তিনি নিজেকে ভারতের বৈধ নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তরুণীর প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। তিনি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি দাবি করেছেন, গুয়াহাটিতে বসবাসকারী তার এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতেই তিনি বেঙ্গালুরু থেকে সেখানে এসেছিলেন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, তিনি কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন এবং ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত কোনো আন্তর্জাতিক চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না।

বুধবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ওই তরুণীকে আসামের গোয়ালপাড়া জেলার একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জাল নথি তৈরির সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য চক্রের সন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আসাম পুলিশ ও ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

Comments (0)
Add Comment