তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর অ্যাভিয়েশন খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগে আগ্রহ

বিমান পরিবহন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার পর দেশের অ্যাভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে ব্রিটিশ সরকার। এ প্রেক্ষাপটে বিমান পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। রাজধানীর সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে সারাহ কুক বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতে একটি বড় মাইলফলক। আধুনিক এই অবকাঠামো চালু হলে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা, কার্গো পরিবহন এবং বিমানবন্দর পরিচালনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আশা প্রকাশ করেন যে বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতও গুরুত্ব পায়। ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানান সারাহ কুক। তাঁর মতে, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হলে তা শুধু দেশের অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই মনে করে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংযোগও আরও শক্তিশালী হবে। ফলে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে এবং বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হবে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠক বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে অ্যাভিয়েশন, শিক্ষা ও বাণিজ্য খাতে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার পথ সুগম করবে।

Comments (0)
Add Comment