একই দিনে ফ্রান্স ও সৌদি আরবে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। ভিন্ন পরিস্থিতিতে ঘটে যাওয়া এই দুই দুর্ঘটনা আবারও বিশ্বজুড়ে বিমান নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে।
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের টমব্লেইন শহরে ন্যান্সি-এসি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের মাত্র কয়েক সেকেন্ড পর একটি ছোট প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি একটি প্যারাশুট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ছিল। এতে থাকা পাইলট, পাঁচজন প্রশিক্ষক এবং পাঁচজন প্যারাট্রুপার প্রশিক্ষণার্থীসহ মোট ১১ জনের সবাই নিহত হন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানান, বিমানটি রানওয়ে থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে বিধ্বস্ত হয় এবং ঘটনাটি বিমানবন্দরে উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সামনেই ঘটে। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানের ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। তবে দুর্ঘটনার আগে কোনো আগুন বা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি।
স্থানীয় গভর্নর ইভ সেগি বলেন, বিমানটি যদি আরও কিছুটা দূরে গিয়ে পড়ত, তাহলে আবাসিক এলাকা ও একটি শপিং সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারত।
অন্যদিকে, একই দিনে সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর রাস তানুরায় জাতীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার দায়িত্ব পালনকালে বিধ্বস্ত হয়। এতে হেলিকপ্টারে থাকা ১৪ জনের সবাই নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত সবাই সৌদি নাগরিক ছিলেন।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর রাস তানুরা বন্দরে আবারও অপরিশোধিত তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সময়ে আঞ্চলিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সৌদি আরব জ্বালানি রপ্তানি বাড়াচ্ছিল, যার ফলে শিল্প খাতে হেলিকপ্টার চলাচলও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি তেলক্ষেত্রের কার্যক্রম বা পরিচালনগত কোনো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত—এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দুটি দুর্ঘটনার প্রকৃতি ভিন্ন হলেও উভয় ঘটনাই বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রশিক্ষণ ফ্লাইট, শিল্প খাতের পরিবহন কিংবা বাণিজ্যিক বিমান চলাচল—সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সম্ভাব্য দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়া হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।