ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারায় প্রস্তাবিত অসামরিক বিমানবন্দর নির্মাণে জমির পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমে ২৫ একর জমির পরিকল্পনা থাকলেও, আধুনিক মানের পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর গড়ে তুলতে এখন মোট ৩৭ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এ লক্ষ্যে জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর ইতোমধ্যে জমি জরিপের কাজ শুরু করেছে।
রাজ্য সরকার আগে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ২৫ একর জমির অনাপত্তিপত্র বা এনওসি প্রদান করেছিল। তবে কোচবিহার বিমানবন্দরের সীমিত রানওয়ে থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার একই ধরনের সীমাবদ্ধতা রাখতে চায় না কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ১২ একর জমি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসিমারা বিমানবাহিনীর ঘাঁটির উত্তর পাশে অবস্থিত সরকারি খাস জমির ২৫ একরের সঙ্গে সংলগ্ন সাতালি ও মধু চা-বাগান থেকে আরও ১২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এরপর পুরো জমি কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা যায়।
রাজ্য সরকারের নির্দেশে জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত জরিপ শেষ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর জমির আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা বলেন, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী অতিরিক্ত ১২ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে হাসিমারায় একটি আধুনিক ডমেস্টিক বিমানবন্দর নির্মাণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সংসদ সদস্য মনোজ টিপ্পা জানান, খুব শিগগিরই কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এলাকাটি পরিদর্শনে আসবেন। তারা জমির উপযোগিতা ও প্রকৃতি যাচাই করবেন। রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করলেই নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
বিমানবন্দর নির্মাণ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রাতুল বিশ্বাস অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, বাড়তি জমি যুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে বিমানবন্দরটি আরও আধুনিক ও সম্প্রসারণযোগ্য হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হাসিমারায় পূর্ণাঙ্গ অসামরিক বিমানবন্দর নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে। বিশেষ করে ভুটান, সিকিম ও ডুয়ার্স অঞ্চলের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় এই বিমানবন্দর ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।