কাতার থেকে ওসমানী বিমানবন্দরে আসছে ৫ বাংলাদেশির মরদেহ

কাতারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশে পৌঁছাবে।

কাতারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশে পৌঁছাবে। কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ জুন) রাত সোয়া ১০টার দিকে কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণের কথা রয়েছে।

দূতাবাস জানায়, মরদেহ দেশে পাঠানোর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করেছে বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। নিহতদের পরিবারের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনই সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। তারা জীবিকার সন্ধানে কাতারে কর্মরত ছিলেন। নিহতরা হলেন— ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের মোস্তাক আহমদ, একই গ্রামের জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের কাদের আহমদ।

তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে কানাইঘাটজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। পরে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের দাফন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে কাতারে ঘটে যাওয়া ওই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যু সংবাদ দেশে পৌঁছালে এলাকাজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়। প্রবাসী অধ্যুষিত কানাইঘাটের অনেক পরিবারই জীবিকার জন্য বিদেশে কর্মরত স্বজনদের ওপর নির্ভরশীল। তাই একসঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যু স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর বেদনার জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার জন্য তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রযোজ্য সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে কাজ করা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এদিকে মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য বিমানবন্দর ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment