ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর অনুসন্ধান আরও এক বছর বাড়াল মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।

বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বিমান নিখোঁজের ঘটনা মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এ লক্ষ্যে গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান ওশান ইনফিনিটির সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন এই চুক্তি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী ১২ মাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চলবে। সরকারের আশা, এই অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের রহস্যের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব হবে।

মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক বলেন, এমএইচ৩৭০-এর অনুসন্ধান অব্যাহত রাখার এই সিদ্ধান্ত নিখোঁজ যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের পরিবারের প্রতি সরকারের অটল অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে ঘটনার একটি গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

২০১৪ সালের ৮ মার্চ কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিংয়ের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর বিমানটি। এতে ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু সদস্যসহ মোট ২৩৯ জন আরোহী ছিলেন। উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। এরপর বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল অনুসন্ধান অভিযান পরিচালিত হলেও আজ পর্যন্ত বিমানটির মূল ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ওশান ইনফিনিটি এর আগে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এমএইচ৩৭০-এর অনুসন্ধান পরিচালনা করেছিল। পরে ‘খুঁজে না পেলে কোনো অর্থ নয়’—এই নীতিতে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তি অনুযায়ী, বিমানটির ধ্বংসাবশেষ সফলভাবে খুঁজে পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানটি ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পাবে।

বর্তমান চুক্তির আওতায় দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের প্রায় ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে এখনো প্রায় ৭ হাজার ৪২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা অনুসন্ধানের বাকি রয়েছে। নতুন মেয়াদে এই অবশিষ্ট এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবহনমন্ত্রী আরও জানান, অনুসন্ধানের সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কারণ, ওশান ইনফিনিটিকে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাদের প্রধান অনুসন্ধান জাহাজের কিছু অংশ অন্য বাণিজ্যিক প্রকল্পে নিয়োজিত রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এমএইচ৩৭০-এর প্রকৃত পরিণতি এখনো অজানা। তাই নতুন করে বাড়ানো এই অনুসন্ধান কার্যক্রম বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান রহস্যের সমাধানের পথে নতুন আশার আলো তৈরি করেছে।

Comments (0)
Add Comment