ইরান যুদ্ধের প্রভাবে TUI-এর মুনাফা কমেছে ২৭ শতাংশ

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ও উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের কারণে ইউরোপের বৃহত্তম ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান TUI তৃতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন করতে পারেনি।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ও উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের কারণে ইউরোপের বৃহত্তম ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান TUI তৃতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। বুধবার প্রকাশিত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের পর শেয়ারবাজারে TUI-এর শেয়ারের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে যায়।

জার্মানভিত্তিক TUI ক্রুজ, বিমান পরিবহন ও হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে পর্যটকদের ভ্রমণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন গন্তব্যে বুকিং কমেছে। একই সময়ে জেট ফুয়েলের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে TUI-এর পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৩৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইউরো, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ কম। বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ২৭৪ মিলিয়ন ইউরো মুনাফার। ফলে প্রত্যাশার তুলনায় কোম্পানির ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।

তবে দুর্বল ফলাফলের পরও ২০২৬ অর্থবছরের জন্য কোম্পানি তার সমন্বিত পরিচালন মুনাফার পূর্বাভাস ১ দশমিক ১ বিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরোর মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছে।

TUI-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেবাস্টিয়ান এবেল বলেন, ২০২৬ সাল স্বাভাবিক কোনো বছর নয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতি কঠিন হলেও TUI এখন পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তার মতে, মানুষের জীবনে ভ্রমণের গুরুত্ব এখনও রয়েছে, তবে পর্যটকরা কখন এবং কোথায় ভ্রমণ করবেন—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পরিবর্তিত হয়েছে।

অনিশ্চিত চাহিদার প্রভাব কমাতে TUI তাদের এয়ারলাইন ব্যবসায় ঝুঁকিপূর্ণ আগাম আসন বুকিংয়ের সক্ষমতা প্রায় ৫ শতাংশ কমিয়েছে। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক চাহিদার ভিত্তিতে বিমানের আসন পূরণের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এবেল জানান, কোম্পানি তাদের সব উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাজ্যে গত বছরের তুলনায় একটি অতিরিক্ত উড়োজাহাজও পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

TUI-এর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় গন্তব্যগুলোতে। পাশাপাশি মধ্য ইউরোপের পর্যটকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের বুকিংও কমেছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এসব অঞ্চলের ভ্রমণ চাহিদায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

এদিকে ইউরোপের অন্যান্য বড় এয়ারলাইনও একই ধরনের চাপের কথা জানিয়েছে। IAG, Lufthansa এবং Air France-KLM আগামী বছর ফ্লাইট সক্ষমতা কমানো অথবা স্থিতিশীল রাখার পরিকল্পনা করছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে TUI-এর শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমেছে। ফলে জ্বালানি ব্যয়, ভ্রমণ চাহিদা এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ইউরোপের পর্যটন ও বিমান খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

Comments (0)
Add Comment