শাহজালালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ, নিরাপত্তা জোরদার এবং যাত্রীসেবার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে অভিযান চালিয়েছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ, নিরাপত্তা জোরদার এবং যাত্রীসেবার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে অভিযান চালিয়েছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকে পরিচালিত এ অভিযানে ৪০ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিমানবন্দর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিমানবন্দর গোলচত্বর, বিআরটিএ স্টেশন, রেলওয়ে স্টেশন, পুলিশ বক্স এলাকা, মূল প্রবেশপথ এবং ভিভিআইপি ও ভিআইপি সড়কসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে আটক ৪০ জনের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ২ জন নারী এবং ২৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ রয়েছেন। আটক শিশুদের মিরপুরের শিশু-কিশোর আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্পেশাল কোর্টে সোপর্দ করা হচ্ছে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, বিমানবন্দরে আগত প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ভবঘুরে ও ভিক্ষুকদের উপদ্রব দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ, পরিবহন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যাত্রীদের ঘিরে ধরার মতো ঘটনা যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ায়। এ কারণে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং যাত্রীদের হয়রানি কমাতে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ অভিযানের আগে গত কয়েকদিনেও বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে আরও ২৮৮ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৪০ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৩২৮ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

আটকদের মধ্যে শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিমানবন্দর এলাকায় ভবঘুরে ও ভিক্ষুকদের পুনরায় জড়ো হওয়া ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারিও চালানো হচ্ছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালু রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিমানবন্দর এলাকার সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে প্রবাসী ও বিদেশি যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ, বিমানবন্দর এলাকার শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হবে।

Comments (0)
Add Comment